লাল পেঁয়াজে টাইফয়েডের জীবাণু

54

যুক্তরাষ্ট্রে এবার সালমোনেলা নিউপোর্ট জীবাণুর ব্যাপক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৪টি স্টেটের প্রায় ৪০০ মানুষ এই জীবাণুর সংক্রমণে অসুস্থ হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই জীবাণু বিস্তারের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার বেকারসফিল্ডের থমসন ইন্টারন্যাশনাল ইনক-এর সরবরাহ করা লাল পেঁয়াজকে শনাক্ত করেছে। ইতিমধ্যে এই কোম্পানির যেকোনো পেঁয়াজ ব্যবহার না করার জন্য মার্কিনীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফেডারেল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, সালমোনেলা নিউপোর্ট জীবাণুর সংক্রমণে এ পর্যন্ত সারা যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ টি স্টেটে প্রায় ৪০০ মানুষ অসুস্থ হয়েছে। আর এর জন্য দায়ী লাল পেঁয়াজ।
গত ৩১ জুলাই আমেরিকার খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এক বিবৃতিতে থমসন ইন্টারন্যাশনাল ইনক-এর বরাত দিয়ে বলেছে, সালমোনেলা ঝুঁকির কারণ হিসেবে তারা লাল পেঁয়াজের ব্যবহারকে চিহ্নিত করছেন। তারা থমসন ইন্টারন্যাশনাল ইনক এর কোনো পেঁয়াজ খাওয়া, সরবরাহ ও বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। কারো বাড়ি কিংবা কোথাও এই কোম্পানির পেঁয়াজ থাকলে বা দেখলে তা ফেলে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোর হিসেব অনুযায়ী সালমোনেলা নিউপোর্টে আক্রান্ত হয়ে ৩৯৬ জন অসুস্থ হয়েছেন এবং তারা আমেরিকার প্রায় ৬০ টি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই রোগে এ পর্যন্ত কারো মৃত্যু হয়নি। এটি প্রথম ধরা পড়ে ১০ জুলাই এবং তা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। এই রোগে আক্রান্তরা সাধারণত ডায়েরিয়া, জ্বর কিংবা পেটের ব্যথায় ভোগেন। সাত দিন পর্যন্ত এ অসুস্থতা থাকে।
বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকার জানান, সালমোনেলা হলো টাইফয়েডের জীবাণু। এই জীবাণু মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং সবার সতর্ক হওয়া উচিত এবং আপাতত লাল পেঁয়াজ না খাওয়া উচিত।
এ দিকে নিউইয়র্ক স্টেটে এই রোগে ৪ জন অসুস্থ হয়েছেন। নিউজার্সি বা কানেকটিকাটে কোনো আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।
কানাডার জনস্বাস্থ্য সংস্থাও (পিএইচএসি) সালমোনেলা নিউপোর্ট সংক্রমণের ঘটনা তদন্ত করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রাদুর্ভাবের পুরো জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সাথে সম্পর্কিত। কানাডা তার প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য উৎস হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা লাল পেঁয়াজকে চিহ্নিত করেছে।