ইলিশ পেয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো ভারত

20

সোমবার দিনভর পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার পর রাতে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য ৮ বছর পর আজ বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ রফতানি শুরু করেছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড) পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের এই নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর হবে।

ভারত থেকে মূলত সাতক্ষীরার ভোমরা, দিনাজপুরের হিলি ও যশোরের বেনাপোল দিয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার কল্যাণ মিত্র চাকমা জানান, সকালে এক ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। তারপর আর আসেনি।

হিলি স্থলবন্দরের কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম বলেন, গতকাল রোববার পর্যন্ত ভারত থেকে ১২৯টি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যা পরিমাণে প্রায় ৮০০ টন। সোমবার সারা দিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, দুপুরের পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা (ভারতীয় কর্তৃপক্ষ) তাদের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তারা নিজ দেশেও (ভারত) পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছেন।

বাংলাদেশে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি হয়, তার সিংহভাগ আসে ভারত থেকে। ভারতে দুই সপ্তাহ আগে দাম বাড়তে থাকে পেঁয়াজের। সঙ্গে বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

ঢাকার বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ জাত ও আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে ছিল। দেশে গত বছর নভেম্বরে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। মূল্যবৃদ্ধির শুরুটা হয়েছিল ভারত থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানিই নিষিদ্ধ করে দেয় দেশটি। এরপর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে তিন শ টাকা পর্যন্ত ওঠে। তখন আকাশ পথেও পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

ভারত গত মার্চ মাসে পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) সদস্য আবু রায়হান আলবেরুনী বলেন, দেশে সামাজিক অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় এখন পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কম। দেশে যা মজুত আছে, তা দিয়ে ভালোভাবেই চলবে। এছাড়াও অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।