ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়তে কেন্দ্রভূমি হবে বাংলাদেশ- স্টিফেন ই বিগান

12

বর্তমানে বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান বলেছেন তাঁর দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান বলেছেন তাঁর দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাথে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে স্টিফেন বিগান এমন মন্তব্য করে বলেন যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়তে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়াতে আগ্রহী এবং এই উদ্যোগের কেন্দ্র ভূমি হবে বাংলাদেশ।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন এক্ষেত্রে শুধু তাদের জরুরি প্রয়োজন মেটানো নয়, পাশাপাশি বাংলাদেশের কাঁধ থেকে এ বোঝা নামানো ও স্থায়ী সমাধানের জন্য বিরাজমান ইস্যুগুলোকে সমন্বয় করতে দুই দেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্টিফেন বিগান বলেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার একটি ন্যায্য সমাধানের জন্য কাজ করছে । এই সমস্যার টেকসই সমাধানে বিশ্বের সকল বৃহৎ দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় দেশগুলোকে মিয়ানমারের সাথে কথা বলতে হবে যাতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা এবং ভু রাজনৈতিক অবস্থনের কারনে বিশ্বে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে। তিনি বলেন বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ, শিক্ষার্থীদের ভিসার সমস্যা, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমুদ্র অর্থনীতি ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পরে দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

এর আগে বুধবার রাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম স্টিফেন বিগানের সাথে বৈঠক করেছেন যখন তাঁরা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়াবলী বিশেষ করে করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসাবে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের সমুদ্র জলসীমায় তেল-গ্যাস সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।