সিনোভ্যাক আসছে না, ভ্যাকসিন দৌড়ে পিছিয়ে পড়লো বাংলাদেশ

16

টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিনের কোনো ট্রায়ালেই অংশ নেবে না বাংলাদেশ। এটাই এখন পর্যন্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের কারণে চীনা ভ্যাকসিন সিনোভ্যাকের ট্রায়াল বাংলাদেশে হচ্ছে না। চীন বলেছে, শুরুতে তারা টাকা চায়নি। বাংলাদেশকে যথেষ্ট সময়ই দেয়া হয়েছিল। সময়মত সিদ্ধান্ত না নেয়ায় বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা অন্যদেশে চলে গেছে। তাই ট্রায়াল চাইলে টাকা দিতে হবে। চীনের তরফে এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্ত নেই। এ কারণে সিনোভ্যাকের বর্তমান প্রস্তাবে সায় নেই বাংলাদেশের। সিদ্ধান্ত নিতে কেন দেরি হলো, এরকম এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, যাচাই বাছাই করতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। সিনোভ্যাক চিঠিতে জানিয়েছে, আগস্টের শুরুতে ট্রায়াল হবে এমনটাই স্থির ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এই অবস্থায় বাংলাদেশ এক লাখ ১০ হাজার ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলো। সিনোভ্যাক বলেছিল, বাংলাদেশে ট্রায়াল হলে তারা এই সুবিধা দেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ ভ্যাকসিন দৌড়ে অনেক পিছিয়ে গেল। যদিও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে এমন পাঁচটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাংলাদেশ এখনও ভ্যাকসিন তৈরিতে এগিয়ে থাকা কোনো সংস্থার সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি করতে পারেনি। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ঢাকার বেক্সিমকো একটি চুক্তি সই করেছে। সরকারের সামনে এই মুহূর্তে দুটো বিকল্প রয়েছে। এক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা। যা কিনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। দুই, বাকি ৮০ ভাগ ভ্যাকসিন পেতে হলে কোন না কোনো সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেছেন, তাদের তহবিলের কোনো সংকট নেই। ভ্যাকসিনের জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি বারবারই বলেছে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভ্যাকসিন দৌড় থেকে পিছিয়ে পড়লে আখেরে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ওদিকে করোনায় মৃত্যু আরও কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৬০০ জন।