পুলিশি সহিংসতার মধ্যেও মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষোভ

11

সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে টানা তিন সপ্তাহের বেশি বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায়ে সহিংসতায় হতাহতের ঘটনার পরও রোববার বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন সেনাশাসন বিরোধী হাজার হাজার প্রতিবাদকারী।

শনিবার মান্দালায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছুড়লে অন্তত তিন বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হয় বলে জানায় মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

অপরদিকে বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের শোয়ে পাইথার টাউনশিপে স্বেচ্ছাসেবী এক প্রহরীকে বেসামরিক এক বাহন থেকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। কারফিউর মধ্যে ওই বাহন কোথায় যাচ্ছে, তা জানতে চাইলে পুলিশ তাকে গুলি করে।

এছাড়া মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও তাজা গুলি ব্যবহার করলে শতাধিক লোক আহত হয়।

রোববার ইয়াঙ্গুনের পৃথক দুই স্থানে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী সামরিক শাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন।

অপরদিকে মান্দালায়ে শান্তিপূর্ণভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদকারীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

মিয়ানমারের কেন্দ্রে অবস্থিত শহরটির তরুণ এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘তারা নিরস্ত্র বেসামরিক লোকদের মাথা নিশানা করেছে। তারা আমাদের ভবিষ্যতকে নিশানা করেছে।’

মিতিকইনা শহরে বিক্ষোভকারীরা সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মিয়ানমারের অন্য শহরগুলোতেও সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন বিক্ষোভকারীরা।

এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও গুলি ছুড়লে, মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক তরুণী বিক্ষোভকারী আহত হন। মিয়া থোয়ে থোয়ে খাইন নামের এই বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু বরণ করেন। মিয়ানমারের সেনাবিরোধী বিক্ষোভে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

এদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বলছে, বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে আহত এক পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের দমনে সামরিক শক্তি ব্যবহারে হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

টুইটারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ, দমন ও নিপীড়ন অগ্রহণযোগ্য।’

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সিঙ্গাপুর মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ফেসবুক মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পেজ ‘সহিংসতায় উস্কানির নিষেধাজ্ঞার ক্রমাগত লঙ্ঘনের’ কারণে বন্ধ করে দিয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি তাতমাদাও নামে পরিচিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। সাথে সাথে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের জেরে এই অভ্যুত্থান ঘটায় সামরিক বাহিনী।

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির পাশাপাশি সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ শ’ ৭০ জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের শুরু থেকে গ্রেফতার থাকা ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সুচির বিরুদ্ধে সামরিক জান্তা সরকার দুইটি অভিযোগ এনেছে, যার মধ্যে একটিতে অনিবন্ধিত ওয়াকিটকি ব্যবহার করায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আগামী ১ মার্চ তার অভিযোগের শুনানি করা হবে।

সূত্র : আলজাজিরা, ইরাবতী ও রয়টার্স