অভ্যুত্থানবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় মিয়ানমারের জাতিসংঘ দূত বরখাস্ত

44

জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা চেয়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার একদিন পর গতকাল শনিবার তাকে বরখাস্ত করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এদিকে দেশটিতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল বিক্ষোভে গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

শুক্রবার রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন দেশটির জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া মিয়ানমার প্রশ্নে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে সব সদস্য রাষ্ট্রকে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতিতে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া সামরিক সরকারকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করারও আহ্বান জানান মিয়ানমারের দূত। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করতে গিয়ে তিনি তিন আঙুলের ইঙ্গিতও প্রদর্শন করেন যা মিয়ানমারে সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে প্রতিবাদকারীরা ব্যবহার করছেন।

তিনি চিরতরে মিয়ানামারে সেনা অভ্যুত্থান বন্ধ করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য অধিবেশনে ব্যাপক প্রশংসা পায়। এমনকি মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রিউসও টুইটার বার্তায় তার সাহসের প্রশংসা করেন। কিন্তু তার এই বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মিয়ানমারের সেনা সরকার। গতকাল দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত দেশের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অস্বীকৃত সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে এক নারী নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। প্রায় পাঁচশ বিক্ষোভকারীকে গতকালও গ্রেফতার করা হয়েছে। মিয়ানমারের তিনটি মিডিয়া জানিয়েছে, মনবয়া শহরে বিক্ষোভের সময় গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, ঐ নারী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। গুলির ঘটনার কারণ জানা যায়নি এবং পুলিশও এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। গতকাল শনিবার বিভিন্ন শহরে পুলিশকে ব্যাপক কঠোর অবস্থানে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা যেন রাস্তায় ঝামেলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য তারা বিক্ষোভস্থলেই অবস্থান করে। এমআরটিভি টেলিভিশন জানিয়েছে, সারা দেশে ৪৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অনেক সাংবাদিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তাদের সহকর্মী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরো বেশি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ দমন অভিযান চালাচ্ছে। ফাঁকা গুলি, স্টান গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তারপরও বিক্ষোভ থামছে না। তরুণ বিক্ষোভকারী শার ইয়ামনে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চললেও পুলিশ অসে¿র মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। গতকাল কিছু কিছু স্থানে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে রাখে।