লকডাউন ঘোষণায় ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, পথে পথে ভোগান্তি

8

এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। মূলত গতকাল শনিবার থেকেই গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। তবে আজ লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই মানুষ তড়িঘড়ি করে ঢাকা ছাড়ছে। ফলে রাজধানীর প্রতিটি সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

রবিবার সকাল ১০টার পর থেকে রাজধানীর গুলিস্তান, শাহবাগ ফার্মগেট, মহাখালী বাংলামটরসহ প্রতিটি সড়কে ছিল তীব্র যানজট। তীব্র গরম আর যানজটে মানুষের কষ্ট কয়েকগুণ বেড়েছে। আবার অনেকে ঢাকায় কাজে এসে দ্রুত বাড়ি ফিরছে।

লকডাউনে অফিস বন্ধ ঘোষণা করায় বেসরকারি চাকরিজীবী শাওন সকাল ৯টার পরই কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রাজধানীর মহম্মদপুর বাসা থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে থেকে শাহবাগ এসে বাস থেকে নেমে মোটরসাইকেল ভাড়া করেন। ইত্তেফাক অনলাইন প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১ ঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে বসে আছি। এখনো শাহবাগ পার হতে পারিনি। তাই দ্রুত যেতে মোটরসাইকেল নিচ্ছি। যে গাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল সেটা মিস করছি। এখন অন্য গাড়িতে যেতে হবে।

লকডাউনের কথা শুনে টাকা তুলতে দৈনিক বাংলা এলাকার একটি ব্যাংকে যান রুবাইয়েত হোসাইন। তিনি জানান, ধানমন্ডি থেকে দৈনিক বাংলা এলাকায় আসতে অনেক পথ ঘুরতে হয়েছে। পান্থপথে এসে জ্যামে পড়েছি। পরে বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করে বাংলামটর এসেও জ্যামে পড়লাম। ফ্লাইওভারে উঠলাম সেখানেও জ্যাম। ১৫ মিনিটের রাস্তা যেতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

ব্যবসার কাজে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন বিল্লাল মিয়া। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সড়কে ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে প্রচণ্ড জ্যাম, কেনাকাটা করতে বিভিন্ন মার্কেটে যেতে হয়েছে। অর্ধেক হেঁটে আর অর্ধেক গাড়িতে যেতে হয়েছে। এখন ফিরতি পথেও জ্যামের মধ্যে পড়লাম।

বাংলামটরে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, আজ সকাল ১০টার পর থেকেই যানজট বাড়তে থাকে। একদিকে প্রচুর মানুষ ঢাকা ছাড়ছে, আবার অফিসগামী মানুষের চাপও রয়েছে। সব মিলে আজকে প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি গাড়িগুলোকে শৃঙ্খলায় রাখতে।