দেশের থানায় থানায় বাঙ্কার, হাতে মেশিনগান

58

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সহিংস আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে হামলা ঠেকাতে অন্যান্য জেলার মতো এবার রাজধানীর ঢাকার কয়েকটি থানায় বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে। এগুলোতে ২৪ ঘণ্টা লাইট মেশিন গান তথা এলএমজি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ডিউটি করতে দেখা গেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের প্রতিটি থানায় নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি থানায় বসানো হয়েছে লাইট মেশিনগান (এলএমজি) ও চাইনিজ রাইফেল সম্বলিত চৌকি। বালুর বস্তা দিয়ে তৈরি চৌকিতে সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশ সদস্যের। এই থানাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা নিয়জিত থাকবে বলে জানা গেছে। মতিঝিল বিভাগের পাশাপাশি ওয়ারী বিভাগের থানাগুলোতেও একই ধরনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, হেফাজতের আন্দোলনসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমি ইতোমধ্যে থানার নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ থানাগুলোতে সবসময় একটা মোবাইল টিম দায়িত্বে থাকবে। ওই টিম সারাদিন থানার আশপাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করবে। তারা কখনও থানার থেকে বেশি দূরে যাবে না। টহল দেবে ২৪ ঘণ্টা।

এদিকে সরেজমিনে ঢাকার ওয়ারী শ্যামপুর থানা,গেন্ডারিয়া থানা ও যাত্রাবাড়ী থানায় বাঙ্কারে এলএমজি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে দেখা গেছে।

ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী থানা, ডেমরা থানা, শ্যামপুর থানা, যাত্রাবাড়ী থানা, গেন্ডারিয়া থানা ও কদমতলি থানায় এ নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। বালুর বস্তা দিয়ে থানার সামনে বসানো হয়েছে চিরাপত্তা চৌকি। চৌকিগুলোতে এলএমজি ও চাইনিজ রাইফেলসহ পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ (রোববার) হেফাজতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালায় হরতাল সমর্থনকারীরা। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি অস্ত্র।

ওই হামলাকারীদের মধ্যে ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু-কিশোর। এ সময় পুলিশের গুলিতে নিহত দুজনের একজন শিশু। আহতদের মধ্যেও কয়েকটি শিশু ছিল। হামলাকারীরা থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে রাখা সাঁজোয়া গাড়িতে (এপিসি) আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময়ে হামলাকারীরা থানার সরকারি দুটি পিকআপ ভ্যান ও ২০ টনের একটি রেকার পুড়িয়ে দেয়। থানার সামনে বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে রাখা দুটি লেগুনা, দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ১০-১২টি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়। পরে থানা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে হামলাকারীরা।