সন্তানকে স্মার্টফোন দিয়ে কী আশা করতে পারেন আপনি

126

মানুষের কাছে সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হচ্ছে তার শৈশব, যা বুকের বাম পাশে যত্নে লুকানো থাকে।

কিন্তু বর্তমান সময়ে শৈশবের সবুজ, সতেজ দুরন্তপনা ঘাস চাপা পড়ে গেছে ইট, রড, সিমেন্টের আড়ালে। বড্ড বেশি যান্ত্রিকতায় কোমল প্রাণগুলো তড়পাচ্ছে।

টের পাচ্ছে না যে রুমে বসে অনলাইনে অর্ডার দিলেই হাতের মুঠোয় সব পাওয়া যায়, ভিডিও গেমের বিভ্রান্তির দুনিয়ায় সারা রাত পার করা যায়, এভাবে জীবনের স্বর্ণালি অধ্যায়টা যান্ত্রিকতায় পার করলে স্মৃতিবিহীন শূন্যতায় ভুগতে হবে একদিন।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা বড্ড বেশি আশা করে ফেলছি। আমরা চাই তারা মানবিক হবে, শ্রদ্ধাশীল হবে, দেশপ্রেমিক হবে। ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত চাকুরে বাবা-মাও আশা করেন সময় দিতে না পারলেও তাদের সন্তান ভালো মানুষ হয়ে গড়ে উঠছে। কতটুকু যৌক্তিক এসব আশা করা!

যে শিশু কখনই একটা বিস্কুট তিনজনে ভাগ করে খায়নি বা খাওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারছে না, চাইলে তার কোনো ছোটখাটো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখা হয় না সে কীভাবে পারবে আর দশজনের প্রিয় বন্ধু হতে! সে কীভাবে জানবে বন্ধুত্ব আন্তরিকতা কাকে বলে!

রিকশাওয়ালা, রাস্তার ধারের পথশিশু, বাদামওয়ালাকে যখন আপনি অসংলগ্নভাবে গালি দিচ্ছেন, তুই সম্বোধন করে বলছেন সেখানে আপনি এটাও আশা করছেন যে আপনার প্রাণপ্রিয় সন্তান আপনাকে শ্রদ্ধার সিংহাসনে বসাবে! কতটুকু যৌক্তিক কল্পনা এটা!

আপনি যখন বয়স্ক নিুশ্রেণীর কর্মচারীর ওপর ক্ষমতার দাপট দেখাতে তাকে চড় মেরে ঠাণ্ডা করলেন। আর মনেমনে আশা বুনতে লাগলেন শেষ বয়সে দারুণ জীবন কাটাবেন আপনি। বৃদ্ধাশ্রমের অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ঘর চিন্তার বাইরে কী করে রাখছেন আপনি।

প্রযুক্তির পৃথিবীর আড়ালে থাকা বাস্তব পৃথিবী না চিনলে মানুষের দুঃখ কীভাবে বুঝবেন আপনি! কীভাবে হাল ধরবেন দেশের!

কিছুই না করে কতটুকুই বা আশা করা উচিত? যান্ত্রিক দুনিয়ায় যান্ত্রিক বানাতে ছোট্ট মানুষের হাতে যখন বেলুন, ঝুমঝুমি না দিয়ে স্মার্টফোন দিচ্ছেন তখন কতটুকু আশা করা যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে?