সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তায় ইসলামের ভূমিকা

115

সমগ্র মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম। পূর্ণাঙ্গ এ জীবন বিধানের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের ওপর করা অত্যাচার-অনাচারসহ সামগ্রিকভাবে যাবতীয় বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত হয়ে মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে থাকে। এ ধরায় মহান আল্লাহর সার্বভৌম প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে মনোনীত ধর্ম ইসলাম রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রতম সংগঠন সমাজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: ‘অতএব তারা যেন এবাদত করে এ ঘরের পালনকর্তার। যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছে এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন’। (সুরা কুরাইশ :৩-৪) আর আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও নিরাময় জীবনের প্রার্থনা করার জন্য রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন: ‘আর তোমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও নিরাময় জীবন প্রার্থনা করবে। কেননা, ঈমানের পর নিরাপত্তা ও নিরাময় জীবনই হলো সবচেয়ে উত্তম জিনিস। আর তোমরা পরস্পর সম্পর্কচ্ছেদ করবে না। একে অপরের পিছনে লাগবে না। পরস্পর হিংসা বিদ্বেষে লিপ্ত হবে না। আল্লাহর বান্দাগণ তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (বোখারী, আল আদাবুল মুফরাদ)

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় পর্যায়ে শান্তি নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: ‘জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই স্বীয় অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহীহ বুখারি) সমাজে বসবাসরত মুসলমানদের স্বরূপ বর্ণনা করে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন: ‘পরস্পর বন্ধুত্ব, দয়া, একের প্রতি অপরের আকর্ষণ ও ঐক্যের ক্ষেত্রে মুমিনের উদাহরণ হলো একটি শরীরের মতো। যখন শরীরের কোন একটি অংশ পীড়িত হয়ে পড়ে তখন শরীরের অন্য অংশের ঘুম আসে না। অস্বস্তিবোধ হয় এবং জ্বর এসে যায়।’ (সহীহ মুসলিম)

সমাজ থেকে বৈরিতা, হিংসা, বিদ্বেষ ও যাবতীয় বিশৃঙ্খলা দূর করে সবাইকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন: ‘সেই মহান সত্তার কসম! যার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ। কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার অপর ভাইয়ের জন্যেও তা পছন্দ করে।’ (সাহীহ মুসলিম) সমাজে যেন সব মানুষ মিলেমিশে নির্ভয়ে থাকতে পারে এ জন্য রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন: ‘কোনো মুসলমানের উচিৎ নয় অপর মুসলমানকে ভয় দেখানো।’ (সুনানে আবু দাউদ) অন্যত্র ইরশাদ করেন: ‘তোমাদের কেউই অস্ত্র দ্বারা তার ভাইকে ধমকাবে না। কেননা, এতে তোমাদের অজান্তে ও অনিচ্ছা সত্ত্বেও শয়তান হাতকে স্থানচ্যুত করে লাগিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সে জাহান্নামে পড়ে যাবে।’ (সাহীহ মুসলিম)

ইসলাম সমাজের মানুষকে পরস্পর ভাই ভাই বন্ধনে আবদ্ধ করে পরমাত্মীয়ে পরিণত করেছে। হিংসা, বিদ্বেষ, কলহ ইত্যাদি দূর করে সবার মাঝে হৃদ্যতার সম্পর্ক তৈরি করেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: ‘আর উপাসনা করো আল্লাহর, শরীক করো না তার সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাসদাসীর প্রতিও।’ (সুরা নিসা : ৩৬) রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন: ‘যে ব্যক্তির অত্যাচার থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহীহ মুসলিম)

অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক শান্তি নিশ্চিতে ইসলামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: ‘যাকাত হলো কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা প্রয়োজন তাদের হক। তা দাস-দাসী মুক্তির জন্যে, ঋণগ্রস্তদের জন্যে, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরের জন্যে। এই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তাওবা :৬০) তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন: ‘আর তোমরা সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অপরের সাহায্য কর।’ (সুরা মায়েদা :০২) এভাবে ইসলাম সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তায় তার ভূমিকা রেখে চলেছে।