গুণে ভরা ‘ড্রাই ফ্রুটস’

131

এমন অনেক ফল আছে যেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় খাওয়ার পাশাপাশি শুকিয়েও খাওয়া যায়। শুকনো এসব ফল ও বাদামই সাধারণত ‘ড্রাই ফ্রুটস’ নামে পরিচিত। আমাদের দেশে কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কিসমিস, আখরোট, পেস্তা বাদাম, খেজুর সবচেয়ে জনপ্রিয় ড্রাই ফ্রুটস।

এগুলো আয়রন, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, বিভিন্ন ভিটামিন, এসেন্সিয়াল ফ্যাট এবং অন্যান্য বিভিন্ন পুষ্টির একটি চমৎকার উৎস। এসব গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় উপাদান থাকায় শুধু সৌন্দর্যে নয়, স্বাস্থ্য রক্ষায়ও এর জুড়ি মেলা ভার। জেনে নিন ড্রাই ফ্রুটসের নানা গুণ সম্পর্কে—

১. কাঠবাদাম: কাঠবাদামে আছে অত্যাবশ্যক ফ্যাটি এসিড, ফাইবার এবং প্রোটিন। ব্রণ প্রতিহত করার জন্য কাঠবাদাম অত্যন্ত কার্যকর। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিকারী এবং রক্ত প্রবাহ বাড়াতেও পারদর্শী। এছাড়াও কাঠবাদাম রক্তে কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি শরীরে লাং এবং স্তন ক্যান্সার সৃষ্টি হতে বাধা দেয়।

২. কিসমিস: কিসমিস দাঁতের ক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ক্যাভিটিস দূরে রাখে। এই ফুড ভিটামিন এ-এর উৎকৃষ্ট উৎস এবং এরা দৃষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও আপনার চোখ রক্ষা করে। কিসমিসে থাকা রেসভেরাট্রোল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে হয়ে যাওয়ার গতিকে ধীর করে দেয়। কিসমিসে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনে ভরপুর। যারা রক্তাল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী খাদ্য এটি।

৩. আখরোট: আখরোট মস্তিষ্কের খাবার হিসাবে পরিচিত। মস্তিষ্কের ৬৯% ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দিয়ে গঠিত, যা আখরোটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়াও আখরোট হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৪. কাজুবাদাম: কাজুবাদাম ভিটামিন ই-এর সমৃদ্ধ উৎস। এটি নিয়মিত খেলে ত্বকের জন্য অ্যান্টি-এজিং উপাদান হিসেবে কাজ করবে। কাজু বাদাম কোলেস্টেরল, ব্লাড সুগার, মাইগ্রেন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. পেস্তা বাদাম: পেস্তা বাদাম সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যান্সার রোধে কাজ করে। এছাড়া রক্তের শর্করা কমানো, হজমে সাহায্য, হার্টের রোগ প্রতিরোধ ও শরীরে ফাইবার ও প্রোটিন সরবরাহ করে এটি।

৬. খেজুর: খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা একাধিক রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ডায়াটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত পটাশিয়াম আরও সব হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমায়। খেজুরে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন হাড় শক্ত করে, ফলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।