জেনে নিন দাঁত ব্রাশের সঠিক পদ্ধতি

374

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলেও আমরা অনেকেই জানি না যে আসলে কীভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হয়। দাঁত সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ না করার কারণে দাঁতের গোড়ায় জীবাণুর আস্তর জমা হয়। ফলে দাঁতব্যথা, রক্ত পড়া ও ক্যারেজ হয়ে থাকে।
আর দাঁতের চিকিৎসা যেহেতু একটু ব্যয়বহুল ও কষ্টকর, তাই সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। এতে আপনার দাঁত সুস্থ থাকবে।
আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এডিএ অনুমোদিত ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করে নরম টুথব্রাশ দিয়ে দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং সকালে নাস্তা করার পর, প্রতিবার ২-৩ মিনিট ব্রাশ করলেই হবে।

তবে এখন প্রশ্ন হলো– এই দাঁত ব্রাশ কীভাবে করবেন। এর সঠিক পদ্ধতি কী?

দাঁত ব্রাশের সঠিক পদ্ধতি- ১. ব্রাশ ভিজিয়ে তাতে টুথপেস্ট লাগান। ফ্লোরাইড টুথপেস্ট সবচেয়ে ভালো। এটি ক্যাভিটি থেকে রক্ষা করে এবং দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। তবে বেশি মাত্রায় টুথপেস্ট ব্যবহার না করাই ভালো। অল্প টুথপেস্ট ব্যবহার করলেই উপকার পাওয়া যায়।

২. ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ব্রাশ করুন। ওপরের পাটি ও নিচের পাটির দাঁতগুলো একসঙ্গে করুন এবং ব্রাশটা ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে রেখে ওপরের পাটির দাঁত ওপর থেকে নিচে এবং নিচের পাটির দাঁত নিচ থেকে ওপরে করে দাঁত মাজলে বেশি উপকার পাবেন।

৩. ছোট ছোট বৃত্তাকার আকারে ব্রাশ করতে হবে। দাঁতের ভেতরের দিকে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে বৃত্তাকার আকারে আলত করে ব্রাশ করতে হবে। এভাবে ২-৩ মিনিট ব্রাশ করুন। ৪. দাঁতের পেছনের দিক বা আপার মোলারে, মুখের একপাশে ব্রাশ করুন। একটা দিক হয়ে গেলে মুখের অন্যদিকেও একইভাবে ব্রাশ করুন। দাঁতের সামনের দিকের পাশাপাশি পেছনের দিকটাও সমানভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৫. লোওয়ার মোলারে ব্রাশ করুন। মুখের একপাশে লোওয়ার মোলারে ২-৩ মিনিটের জন্য ব্রাশ করুন। তার পরে মুখের অন্যদিকে শিফট করুন এবং এটির পুনরাবৃত্তি করুন।

৬. দাঁতের ভেতরে ব্রাশ করতে হবে। অনেকেই ব্রাশ করার সময় দাঁতের সামনের দিকটা শুধু পরিষ্কার করলেও ভেতরের দিকটা করেন না। ফলে সেসব জায়গায় ব্যাকটেরিয়া জমতে শুরু করে।

৭. জিহ্বা ও গালের ভেতরে ব্রাশ করুন। জিহ্বা ও গালের ভেতরেও পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এগুলোতে ময়লা জমে মুখকে দুর্গন্ধযুক্ত করে তোলে।

৮. ব্রাশ শেষ হলে মুখ ও টুথব্রাশ ধুয়ে নিন। এর পর মুখে পানি নিন ও ভালো করে কুলকুচি করে ফেলে দিন। দাঁত মাজার পর ভালো করে ব্রাশ ধুয়ে নিন। যেন ব্রাশে কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া জমে থাকতে না পারে। আর ৩-৬ মাস পর পর ব্রাশ পরিবর্তন করুন।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই