বাংলাদেশে করোনা অনেকদিনের অতিথি হয়ে থাকবে

113

বাংলাদেশে করোনার দাপট সব হিসেব নিকেশের বাইরে। ধারণা করা হয়েছিলো মে মাস পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমনটাই বলেছিলেন। এখন তারাই বলছেন সহজে যাবার নয়, অনেকদিন থাকবে এই অতিথি। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এজন্য জনগণের অবাধ মেলামেশাকেই দায়ী করছেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. এবিএম আবদুল্লাহও এর সঙ্গে একমত।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সবকিছু স্বাভাবিক করার জন্য কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছিল। গনপরিবহন ছাড়া যান চলাচল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল রাস্তায়। অনুমতি দেয়া হয়েছিল দোকানপাট খোলার। কিন্তু ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বেই শপিং মল খুলেননি। কিছু দোকানপাট অবশ্য খুলেছে। দোকান মালিক সমিতি বলছে, এতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এটা সম্পূর্ণভাবে দোকান মালিকদের সিদ্ধান্ত।

সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে ১৫ শর্তে। ২১ মে থেকে কড়াকড়ি হবে এমনটাই বোঝা গিয়েছিল সরকারি প্রজ্ঞাপনে। বলা হয়েছিল ওই সময়ে এক জেলা থেক আরেক জেলায় যাওয়া যাবেনা। কর্মস্থল ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যাবেনা। কিন্তু রোববার সকাল থেকে হঠাৎ করেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢাকায় আসতে বা বাইরে যেতে পারবেন না। ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশ পথে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। নানা অজুহাতে অনেকেই ঢাকা আসছেন। আবার কেউ কেউ ঢাকা ছাড়ছেন। ফেরী ঘাটগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় দেখে মনে হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই তারা গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন।

করোনা পরিস্থিতি যে ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কথাবার্তায় এর ইঙ্গিত মিলছে। জাতীয় রোগ তত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, তার ধারণা করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০-৪০ গুন বেশি হবে। গত ২৪ ঘন্টায় ১২৭৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৪ জন। সবমিলিয়ে ২২ হাজার ২৬৮ জনের শরীরে করোনা বাসা বেধেছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩২৮ জন। ডা. মোশতাক হোসেনের মতে বিপুল সংখ্যক মানুষ সামাজিকভাবে হেনস্থা হবার ভয়ে পরীক্ষা করতে আসছেন না। এখন যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে শতকরা ১৪ ভাগকে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হচ্ছে।