করোনার টিকায় আস্থা নেই এক চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিকের

114

যুক্তরাষ্ট্রের এক চতুর্থাংশ নাগরিকের করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণে কম কিংবা কোনো আগ্রহ নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে বৃহস্পতিবার এমন তথ্য পাওয়া গেছে। যেভাবে রেকর্ড গতিতে যুক্তরাষ্ট্রে টিকা উদ্ভাবন প্রকল্পের কাজ চলছে, তাতে নিরাপত্তা নিয়ে আপস করা হয় কিনা; তা নিয়ে অনেক আমেরিকান নাগরিকদের উদ্বেগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকার প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে বৈশ্বিক মহামারীতে পরস্পরবিরোধী নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়ে তোপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কাজেই টিকা প্রকল্পেও আস্থার সংকটের আভাস দিয়েছে নতুন এই জরিপ।

জরিপে অংশ নেয়া ৩৬ শতাংশ লোক বলছেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই টিকাকে নিরাপদ বলেন, তবে তা গ্রহণে তাদের ইচ্ছা কম। আর ১৪ শতাংশ নাগরিক টিকা নিয়ে অতি আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

চার হাজার ৪২৮ জন জন এই জরিপে অংশ নিয়েছেন। গত ১৩ থেকে ১৯ মে’র মধ্যে জরিপটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকাংশ লোক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন কিংবা বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা যদি এই টিকার নিরাপত্তার কথা বলে, তবেই তারা তাতে আস্থা রাখবেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী দুই তৃতীয়াংশেরও কম লোক বলছেন, টিকার ক্ষেত্রে তারা ‘কম’ কিংবা ‘কিছুটা’ আগ্রহী। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৯২ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে।

জরিপের ১৪ শতাংশ বলছেন, তারা টিকা নিতে একেবারেই আগ্রহী না। আর ১০ শতাংশের দাবি তারা খুব একটা আগ্রহী না। আর ১১ শতাংশ দ্বিধার মধ্যে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের সংক্রমণ এড়াতে টিকার মাধ্যমে ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিককে রোগপ্রতিরোধ শক্তি অর্জন করতে হবে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ টিকা উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও নিরাপদ ও ফলপ্রসূ টিকা উদ্ভাবনে ১০ বছর কিংবা তার বেশি সময় লাগার কথা। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, সম্পূর্ণ পরীক্ষিত, সরকার-অনুমোদিত টিকা ২০২১ সালের মাঝামাঝি কিংবা তার আগে ব্যাপকভাবে সহজলভ্য হবে না।