Katrina Love For Bangladesh এর পক্ষ থেকে ভালবাসার উপহার বিতারন

91

“মানুষকে ভালবাসার স্বভাব ”

প্রতিদিন সকালে কাজ শুরুর পূর্বে আমার অফিসে রুটিনমাফিক বাইবেল পাঠ, কোরআন তেলওয়াত , গীতা পাঠ এবং  প্রর্থনা হয় । বিগত ২০ মে.২০২০,  প্রার্থনার পূর্বে ম্যসেন্জারে একটি ম্যাসেজ দেখতে পেলাম। লেখা ছিল-Dada Tumi Amaki massanger Ekta Call deo. ম্যাসেজটি আমার ছোট বোন মার্গারেট পাঠিয়েছে।  মার্গারেট  আমেরিকায় থাকে।
ভাবলাম প্রার্থনার পর কল দেই। তাই-ই করলাম। মার্গারেট বলল যে দাদা তুমি তো অনেক অসহায় মানুষদের জন্য কাজ কর, ঘুনিঝড় আম্ফানে এখানে অনেকের তো ক্ষতি হয়েছে। আমরা তাদের জন্য কিছু  করতে চাই।
আমি আমার সহকর্মীদের সাথে আলাপ করলাম। তারা বিষয়টিকে সাদুবাদ জানাল। বলল যে তাহলে আমরা কিছু খাদ্য দিতে পারি যারা ঘুনিঝরে অপেক্ষাকৃত বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
আমি মার্গারেটকে জানালাম। সে তার স্বামী ক্যালভিনকে নিয়ে আমার সাথে কথা বলল। তারা তাৎক্ষনিকভাবে ২০,০০০ টাকা পাঠাল।
ইতিমধ্যে প্রকল্পের হিসাব রক্ষক একটা বাজেট তৈরী করে দিল ও আমি তাদেরকে পাঠালাম। তারা বলল তোমরা যা ভাল মনে কর তা কর।
কর্মীদের পরামর্শক্রমে আমরা ২৫০ কেজি চাল,১০০ কেজি আলু, ৫০কেজি ডাল, ৫০ প্যাকেট লবন ও ৫০ প্যকেট তেল কিনলাম। মোট খরচ হল ১৯৮৮৫ টাকা।  এর মধ্যে নগদ খরচ করেছি মাত্র ১৭০ টাকা। বাকী টাকা দোকানদারদের বিকাশে পরিশোধ করেছি।
আমার কর্মীরা ও Self-help Group এর সদস্যরা যৌথভাবে মহানন্দে ৫০টি প্যাটেক তেরী করল। ঐদিকে তারা একটা তালিকাও তৈরী করল। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে বিষয়টি জ্ঞাত করলাম। তিনিও সাধুবাদ জানাল। পাশাপাশি চিলা ইউনিয়নে ও চাঁদপাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সুবিধাভোগীদের তালিকা সহ পত্রের মাধ্যমে অবগত করলাম। তারা ও সাধুবাদগ জানাল।  ২২ মে, শুক্রবার আমরা পশুর নদীর পারের ক্ষতিগ্রস্থ কাটাখালি, কোলাবাড়ী, সিন্দুরতলা, তেলিখালী, কলাতলা, কেয়াবুনিয়া, কানাইনগর, মালগাজী, মাছমারা, উত্তরকাইনমারী গ্রামের  ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্থ ও দরিদ্র পরিবারকে এই খাদ্য বিতরন করলাম।

খাদ্য গ্রহনকারী প্রতিটি পরিবারের নারী তাদের নাম ধরে প্রার্থনাকরল ও আশির্বাদ করল, তাদের অসহায় এই অবস্থায় সাহায্য করার জন্য ঈশ্বর তাদেরকে অনেক অনেক আশির্বাদ করে।
আমি ও আমার প্রকল্পের কমী, দলের সদস্য সকলে আমরা খুশি হয়ে তাদের জন্য প্রার্থনা ও আশির্বাদ করলাম, তারা যেন তাদের পেষাগত ও পরিবারগতভাবে অনেক আশির্বাদ প্রাপ্ত হয়।
দেখুন আমরা তাদের জন্য কিছুই চাইনি।  স্বেচ্ছায় তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এজন্যই বলছি যে, সাহায্য করার অভ্যাস থাকলে তারা নিজেরাই অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায়। অনেক টাকা পয়সা থাকলেও মানুষকে সাহায্য করা যায়না, যদি তার পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও  নৈকিত শিক্ষার ঘাটতি থাকে।
আমারা অনেকেই সাহায্য করি আমাদের আত্নীয় পরিজনদের , কিন্তু যারা অনাত্নিয়দের বিপদে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আমার মতে তারাই মানুষকে প্রকৃতভাবে ভালবাসে। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এবং প্রার্থনা করি যেন তাদের নেতৃত্বে Katrina Love for Bangaldesh প্রতিষ্ঠানটি এভাবে হাজার মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারে। আমি অনুরোধ করছি আপনাদের সকলকে এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করতে।