নিউইয়র্কে করোনা টেস্টের ভ্রাম্যমান ক্যাম্পে ৪ শতাধিক প্রবাসী

67

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল করোনাভাইরাস। এখানকার এলমহার্স্ট হাসপাতালে মার্চের শেষ ও এপ্রিলে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালের বারান্দা অথবা জরুরী বিভাগের বিশ্রামাগারে-সে হিসাব এখনও নির্নীত হয়নি। করোনার প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রিয়-পরিচিতজনের মাধ্যমে সে তালিকা তৈরী করছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো। যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীও রয়েছেন। সেই এলাকায় অর্থাৎ জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো ‘করোনাভাইরাস টেস্টের ভ্রাম্যমান ক্যাম্প।’ মার্কস হোমকেয়ারের সহায়তায় এ আয়োজন করেন কমিউনিটি লিডার কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, আব্দুর রহিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হোসেন খান, শানেয়াজ, জয় চৌধুরী, ফারুক হোসেন মজুমদার প্রমুখ। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী। বেলা ১২টায় শুরু এ ক্যাম্প চলে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ। শতশত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হবেই বিধায় চারশত জনের টেস্ট করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্টদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে টেস্ট করতে। এছাড়া, একই ব্যক্তিবর্গের ব্যবস্থাপনায় ২৬ জুন শুক্রবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সামনে অনুষ্ঠেয় ভ্রাম্যমান ক্যাম্পে যাবার অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কাজী আজম এবং ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে এর আগের শুক্রবার অর্থাৎ ৫ জুন ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে অনুষ্ঠিত ভ্রাম্যমান টেস্ট সেন্টারেও ৩ শতাধিক প্রবাসী অংশ নিয়েছিলেন।

স্মরণ করা যেতে পারে করোনায় নিউইয়র্ক সিটিতে মারা গেছে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ। এখনও অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও নতুন সংক্রমণের হার একেবারেই সর্বনিনিম্নে এবং মৃত্যুর হারও দৈনিক ৩০ জনের নীচে নেমেছে। এজন্যে ৮ জুন থেকে লকডাউন উঠিয়ে নেয়ার প্রথম ধাপে পদার্পণ করেছে নিউইয়র্ক সিটি। ২২ জুন দ্বিতীয় ধাপে অফিস পাড়া, রিয়েল এস্টেট এবং সেলুন খুলে দেয়ার দ্বিতীয় ধাপে পদার্পণের সম্ভাবনার কথা ১৩ জুন অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টেট গভর্ণর এ্যান্ড্রু ক্যুমো আশা পোষণ করেছেন। এজন্যে তিনি নগরবাসীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্যে। এই বিধি হচ্ছে করোনাকে নিয়ন্ত্রণের একমাত্র হাতিয়ার। উল্লেখ্য, করোনায় এই সিটিতে নিহতদের মধ্যে দুই শতাধিক বাংলাদেশীও রয়েছেন। নিউইয়র্ক অঞ্চলের প্রবাসীদের মাদার সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র প্রেসিডেন্ট কামাল আহমেদও রয়েছেন মৃত্যুর তালিকায়। এ ধরনের অনেক বিশিষ্টজন চিরবিদায় নিয়েছেন করোনায়। তাই, সকলেই সজাগ হয়ে করোনা টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। যাদের রেজাল্ট পরিজিঠ, তারা যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুতে নিউইয়র্ক…

জুন ১৪, ২০২০
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর দাফন…

জুন ১৪, ২০২০
২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে সুস্থতা

জুন ১৪, ২০২০
usbd vacation 4
এদিকে, প্রথম ধাপে কন্সট্রাকশন কাজ, কল-কারখানা খুলে দেয়া হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকলকে মাস্ক পরার নির্দেশ রয়েছে। রাস্তার পার্শ্ববর্তী ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিলেও সরাসরি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধুমাত্র অনলাইনে অর্ডারকারিরা নিজ নিজ পন্য পিকআপ করবেন। হোলসেল মার্কেট থেকে পণ্য ডেলিভারির অনুমতিও রয়েছে। জরুরী পন্য এবং খাদ্য-সামগ্রির স্টোর, রেস্টুরেন্ট সবসময়ই খোলা রাখার অনুমতি থাকলেও এখন পর্যন্ত রেস্টুরেন্টে বসে খাবার গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়নি। সে পর্যায়ে যেতে ৬ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে আগের মত এখনও রেস্টুরেন্ট থেকে খাদ্য প্যাকেপ করে বাসায় নেয়া যাবে। এতদসত্বেও জ্যাকসন হাইটসে অন্তত: একটি রেস্টুরেন্টে চেয়ার বসিয়ে আগের মতোই (সামাজিক দূরত্ব অবজ্ঞা করে) খাবার বিক্রি ও গ্রহণের দৃশ্য অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই রেস্টুরেন্টের মালিক-কর্মচারিগণের কেউ কেউ করোনায় আক্রান্ত হবার তথ্য গোপন রেখে ব্যবসা অব্যাহত রাখায় অনেক গ্রাহকও আক্রান্ত হয়েছিলেন। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই বেশ কটি রেস্টুৃরেন্ট মালিককে মোটা অংকের জরিমানার টিকিট দেয়া হয়েছে-যার মধ্যে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেছেন, করোনাভাইরাসকে অবজ্ঞা করলে নিজেই মহাবিপদ ডেকে আনবেন। কারণ, এটির কোন বাছবিচার নেই। তাই নিজের স্বার্থেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা জরুরী। শুরুতে আমরা অনেকেই একে আমলে নিতে চাইনি বলেই পরিচিত অনেককেই অকালে হারিয়েছি। কাজী আজম এবং ফিরোজ আহমেদ এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন যে, জুলাইয়ের শুরুতেই ব্রঙ্কসেও ভ্রাম্যমান টেস্টিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।