নিউইয়র্কে স্লোগান ‘হিন্দু লাইভস ম্যাটার ইন বাংলাদেশ’

66

পুলিশী বর্বরতায় নিহত গোপালগঞ্জের কৃষক নিখিল তালুকদার স্মরণে ১৪ জুন রোববার নিউইয়র্কে এক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অভিযোগ করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে তুমুল আন্দোলনের মধ্যেই ২ জুন মঙ্গলবার বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে এক সাব ইন্সপেক্টরের অকথ্য নির্যাতনের নিষ্ঠুর বলি হয়েছেন হিন্দু কৃষক নিখিল তালুকদার (৩২)। কোটালিপাড়ার রামশিল বাজারে ঐদিন সকাল ১১টায় তিন বন্ধুর সাথে বসে তাস খেলার অপরাধে সাব ইন্সপেক্টর শামীম উদ্দিন গ্রেফতার করে নিখিলকে। তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এক পর্যায়ে তার মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে গেলে তাকে দ্রুত ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তির পরদিন শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন নিখিল তালুকদার। এসব তথ্য র‌্যালিতে উপস্থাপন করেন কমিউনিটি এাক্টিভিস্ট গোপাল সান্যাল। এ সময় সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ন্যায় বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। এতে জর্জ ফ্লয়েড এবং নিখিল তালুকদর হত্যাকান্ডকে একই ধারার পুলিশী বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করেন আরেক কমিউনিটি সংগঠক শুভ রায়। তিনি বলেন, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, গোপালগঞ্জের সেই এসআইকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে। তাকে শুধু কর্তব্য থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে ক্লোজ করা হয়েছে। স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে র‌্যালিতে বক্তব্যকালে শুভ রায় উল্লেখ করেন যে, নিখিল হত্যার অভিযোগে তার ভাই থানায় একটি মামলা করেছেন এসআই শামীমের নামোল্লেখ করে।

র‌্যালিতে বক্তব্যকালে দিনেশ মজুমদার এবং দীপক দাস অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু সুশীল সমাজের লোকজনও প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে না। জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার বিচার দাবিতে সারাবিশ্ব রুখে দাঁড়াচ্ছে অথচ একই ধরনের নির্মমতার ভিকটিম নিখিলের কথা কেউই উচ্চারণ করছে না।

র‌্যালিতে জর্জ ফ্লয়েড এবং নিখিল তালুকদারসহ পুলিশী বর্বরতায় নিহত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিটি হত্যাকান্ডে জড়িত পুলিশের বিচার ও এবং আর যাতে কোন ফ্লয়েড-নিখিলের প্রাণ না ঝরে তেমন কঠোর বিধির দাবি জানানো হয়। উল্লেখ্য, জর্জ ফ্লয়েড হত্যার বিচার ও বর্নবাদ নির্মূলের দাবিতে ১৪ জুন ছিল টানা ২০দিনের বিক্ষোভ-কর্মসূচি।