মৃত্যু কমছে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে

76

করোনাভাইরাসে মৃত্যু কমছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে। প্রায় দু’মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক মৃতের সংখ্যা সাড়ে তিনশ’র নিচে নেমেছে। ব্রিটেনেও প্রাণহানি সর্বনিু পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে আমেরিকার ফ্লোরিডার স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বড় ধরনের জিনগত মিউটেশন হয়েছে। এতে এর সংক্রমণ ক্ষমতা আরও বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

আগামী নভেম্বরে ভারতে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)। চীনে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় সেখানে গণহারে টেস্ট শুরু হয়েছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ জন। মারা গেছেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৬ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৫৪ হাজার ৫৩৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৪১ লাখ ৪৮ হাজার ১২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ১১৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ জনের।

বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্তের গড় প্রায় একই রকম থাকলেও মৃত্যু অনেক কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৩১ জনের। দেশটিতে মধ্য এপ্রিলের পর এটি সর্বনিু মৃত্যুর রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ২১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৪ জন, মারা গেছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৮ জন।

অন্যদিকে তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যেও কয়েক মাসের মধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা সর্বনিু পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোববার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে নতুন করে ৩৬ জন মারা গেছেন, যা ২১ মার্চের পর সর্বনিু। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৯৮ জন। ইউরোপের কোনো দেশে এটিই করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮৯ জন।

বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৫৯৮ জনের। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ জন, মারা গেছেন ৪৩ হাজার ৩৮৯ জন। তৃতীয় স্থানে রাশিয়া। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ২১০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৯১ জনের। স্পেনে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৯১ হাজার ৮ জন, মারা গেছেন ২৭ হাজার ১৩৬ জন। এরপর ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৯ জন, মারা গেছেন ৩৪ হাজার ৩৪৫ জন।

ফ্লোরিডার স্ক্রিপস রিসার্চের ভাইরোলজিস্ট গবেষক হায়ারউন চয়ি বলেন, করোনাভাইরাসের বড় ধরনের জিনগত মিউটেশন হয়েছে। আমরা যে কালচার সিস্টেম ব্যবহার করেছি, তাতে মিউটেশন না হওয়া ভাইরাসের তুলনায় এ রকম মিউটেশন হওয়া ভাইরাস অনেক বেশি সংক্রামক।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কীভাবে আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে, সেই উপায় সম্ভবত খুঁজে পেয়েছে করোনা। স্ক্রিপস রিসার্চের ইমিউনোলজি এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহসভাপতি মাইকেল ফারজান বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকে থাকা এবং যতক্ষণ না প্রয়োজন, ততক্ষণ না ভেঙে যাওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছে করোনাভাইরাস।

নভেম্বরেই করোনা সংক্রমণে শীর্ষে যাবে ভারত : ভারতে করোনার সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছাতে পারে মাঝ-নভেম্বরে। আর তখনই ঘাটতি দেখা দিতে পারে আইসিইউ-শয্যা ও ভেন্টিলেটরের।

এমনই তথ্য জানানো হয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) গঠিত অপারেশনস রিসার্চ গ্রুপের গবেষণায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৯২৯ জনের। আর মারা গেছেন ৩১১ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৫২৪ জনের।

গবেষণা বলছে, লকডাউনের ফলেই ভারতে সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছতে ৩৪ থেকে ৭৬ দিন দেরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামো গুছিয়ে নেয়ার সময় মিলেছে। সংক্রমিতের সংখ্যা যা হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে ৬৯ শতাংশ থেকে ৯৭ শতাংশ কমেছে। এদিকে, লকডাউনের পর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ৬০ শতাংশ জোরদার হয়েছে বলে জানায় আইসিএমআরের গবেষণা। এর ফলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চিকিৎসা অবকাঠামোয় ঘাটতি হবে না।

চীনে গণহারে টেস্ট শুরু : করোনা মহামারীর প্রথম ধাক্কা সামাল দিলেও গত কয়েকদিনে চীনে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ। দ্বিতীয় পর্যায়ে অন্তত টানা তিন দিন নতুন রোগী শনাক্তের রেকর্ড গড়েছে দেশটি। এ কারণে গণহারে করোনা পরীক্ষা শুরু করেছে চীন। যেসব এলাকায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে সেখানেই ব্যাপক আকারে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

সোমবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আরও অন্তত ৪৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৩৬ জনই দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ের। সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে সেখানকার দুটি প্রধান পাইকারি পণ্যের বাজার লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। অন্তত ১১টি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।