নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত

86

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাইমারী নির্বাচন। মঙ্গলবার ২৩ এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে হেরে গেলেন বদরুন খান মিতা, সানিয়াত চৌধুরী, মেরী জোবায়দা, মাহফুজ ইসলাম, জয় চৌধুরী সহ বাংলাদেশী প্রার্থীরা। যদিও চুড়ান্ত ফলাফল পেতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। কেননা অ্যাবসেন্টি ভোট গণনা এখনো বাকী রয়েছে। তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত প্রার্থীদের মধ্যে কমিটিওম্যান পদে জামিলা আক্তার উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং স্ট্যাটান আইল্যান্ডের রিচমন্ড কাউন্টি ডেমোক্রোটিক ডেলিগেট অন জো বাইডেন স্লেট ও জুডিশিয়াল ডেলিগেট পদে জয়ী হয়েছেন মোহাম্মদ এ কে চৌধুরী জয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে নির্বাচনে বরাবরের মতো ভোটার উপস্থিতর সংখ্যা কম থাকলেও এবার বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত প্রার্থীদের সংখ্যা বেশী অংশ নেয়ায় বাংলাদেশী কমিউনিটির অংশগ্রহণ ছিলো লক্ষণীয়। নির্বাচনে ইউএস কংগ্রেসে ২জন, ষ্টেট অ্যাসেম্বলীতে ৩জন বাংলাদেশী-আমেরিকান এবং ডিষ্ট্রিক্ট লীডার সহ বিভিন্ন পদে অন্তত ১৫জন বাংলাদেশী বংশদ্ভুত অংশ নেন। এর আগে নিউইয়র্ক থেকে এতো সংখ্যক বাংলাদেশী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি এবং নতুন প্রজন্মের এতো প্রার্থীও দেখা যায়নি।
এদিকে করোনাভাইরাস জনিত প্রেক্ষাপটে ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বোর্ড অব ইলেকশন অফিস অ্যাবসেন্টি ব্যালটের উপর গুরুত্বারোপ করে বলে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে বোর্ড অব ইলেকশন অফিস নিউইয়র্কের ৭ লক্ষাধিক ভোটারের নামে তাদের বাসা-বাড়ীর ঠিকানায় ব্যালট পেপার প্রেরণ করে বলে সূত্র জানায়। খবর ইউএনএ’র।
মঙ্গলবার ২৩ জুনের প্রাইমারী নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশদ্ভুত প্রার্থীদের মধ্যে ইউএস কংগ্রেসওম্যান পদে নিউইয়র্কের কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-১৪ থেকে বদরুন্নাহার মিতা এবং কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৫ থেকে সানিয়াত চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিউইয়র্ক ষ্টেটের অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৭ (কুইন্স ব্রীজ, লং আইল্যান্ড সিটি, সানি সাইড, উডসাইড, ম্যাসপাথ ও রিজউড) থেকে অ্যাসেম্বলীওম্যান পদে মেরী জোবায়দা, অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-২৪ থেকে মাহফুজুল ইসলাম এবং অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৪ থেকে জয় চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এয়াড়াও ডেমোক্র্যাট দলীয় ডিষ্ট্রিক্ট লীডার পদে অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-২৪ থেকে ফিমেল লীডার পদে মৌমিতা আহমেদ, মেল লীডার পদে মাহতাব খান ও ইশতিয়াক চৌধুরী, অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩২ থেকে মেল লীডার পদে মোহাম্মদ চৌধুরী ও ফিমেল লীডার পদে মোবাসসেরা বেগম, অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে ফিমেল লীডার পদে সাঈদা আক্তার, অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৫৪ থেকে মেল লীডার পদে নাফিজ আই চৌধুরী, অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে মেল লীডার পদে এন মজুমদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপরদিকে অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-২৪ থেকে জুডিলিয়াল ডেলিগেট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোহাম্মদ এম রহমান। এয়াড়াও নিউইয়র্কের ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্র্রিক্ট-২৪ থেকে কমিটিওম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জামিলা আক্তার উদ্দিন।
ইউএস কংগ্রেসে বর্তমানরাই জয়ী
সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে মঙ্গলবারের নির্বাচনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউইয়র্কের ইউএস কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৬ থেকে পুন: নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। তার প্রতি বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর সমর্থন রয়েছে।
অপরদিকে কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৫ থেকে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রবীণ ও বর্তমান কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্স বিজয়ী হয়েছেন। তার সাথে প্রাইমারীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তরুণ রাজনীতিক বাংলাদেশী-আমেরিকান সানিয়াত চৌধুরী। এই আসনে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্স-এর প্রাপ্ত ভোট ৩৩,০৯৭। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশী-আমেরিকান সানিয়াত চৌধুরী পেয়েছেন ৮,৯৮৬ ভোট।
বাংলাদেশী অধ্যুষিত কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-১৪ থেকে পুন: নির্বাচিত হলেন বর্তমান কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্ডার ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি পেয়েছেন ২৭,১০৩ অর্থাৎ ৭২ দশমিক ৬% ভোট। এই আসনের অপর প্রার্থীদের মধ্যে মাইকেল কাসু-ক্যাবরেনা পেয়েছেন ৭,২৫৪ অর্থাৎ ১৯ দশমিক ৪% ভোট, বদরুন খান পেয়েছেন ২,০৩০ অর্থাৎ ৫ দশমিক ৪% ভোট আর স্যামুয়ের স্লোয়ান পেয়েছেন ৯২৩ অর্থাৎ ২ দশমিক ৫% ভোট।
এদিকে বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট ডিষ্ট্রিক্ট-৩২ থেকে পুন: নির্বাচিত হলেন বর্তমান সিনেটর লুইস সেপুলভেদা। যিনি বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ‘লুইস ভাই’ নামে সমধিক পরিচিত। এই আসনে লুইস সেপুলভেদা পেয়েছেন ৭,০৫৫ অর্থাৎ ৫৩ দশমিক ৭% ভোট। অপর প্রার্থীদের মধ্যে পামেলা স্টেওয়ার্ট-মার্টিনেজ পেয়েছেন ৪,৫০৩ অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৩% ভোট
আর জন পেরেজ পেয়েছেন ১,৫৪০ অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭% ভোট।
অপরদিকে এবারের নির্বাচনে নিউইয়র্ক ষ্টেটের অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৭ আসনের আলোচিত প্রার্থী মেরী জোবায়দা পেয়েছেন ৩৩% অর্থাৎ ২,৭১১ ভোট। এই আসনে বিজয়ী বর্তমান অ্যাসেম্বলীওমান ক্যাথেরিন নোলান পেয়েছেন ৫২ দশমিক ৫% অর্থাৎ ৪,৩১৪ ভোট। এই আসনের ৩জন প্রার্থীর মধ্যে মেরী জোবায়দার আসন দ্বিতীয়।
অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৪ আসনে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ১৫ দশমিক ১% অর্থাৎ ৯৪৩ ভোট। তার এই আসনে বিজয়ী জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস পেয়েছেন ৪০ দশমিক ৪% অর্থাৎ ২,৫১৪ ভোট। এই আসনের ৫জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ের আসন তৃতীয়।
কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট পদে ডনোভান রিচার্ড এগিয়ে
বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট পদে ডনোভান রিচার্ড ৩৯,৮৬১ অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৮% ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এই পদের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে এলিজাবেথ ক্রাউলী পেয়েছেন ৩০,৭০৪ অর্থাৎ ২৮ দশমিক ৪% ভোট, কস্টা কন্সটানটিনিডিস পেয়েছেন ১৬,০৩৬ অর্থাৎ ১৫ দশমিক ৫% ভোট, এন্থনী মিরান্ডা পেয়েছেন ১৬,০৩৬ অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৮% ভোট আর দাও ইয়াইন পেয়েছেন ৪,৮৪১ অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫% ভোট।