ভাইরাসের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যেতে পারে ক্ষুধায়

68

করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিতে চলতি বছর ভাইরাসের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যেতে পারে ক্ষুধায়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। প্রতিবেদন অনুসারে, এই মহামারি বিশ্বের আনুমানিক ১২ কোটি ২০ লাখ অতিদরিদ্র মানুষকে তীব্র ক্ষুধা ও গভীর দরিদ্রতার মুখে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে প্রতিদিন মৃত্যু হতে পারে ১২ হাজার অতিরিক্ত মানুষের। এখন অবধি বিশ্বজুড়ে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার দেখা গেছে গত এপ্রিলে। সেসময় প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে। এ খবর দিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

খবরে বলা হয়, মহামারি ও লকডাউনের মাঝে বেড়েছে বেকাররত্বের হার, কমেছে আয়, বাধাগ্রস্ত হয়েছে খাদ্য উৎপাদন ও মানবিক সহায়তা। গত বছর ৮২ কোটি ১০ লাখ মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তায় ভুগেছে।

এর মধ্যে ১৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ চরম মাত্রার ক্ষুধার সংকটের সম্মুখীন ছিল।

অক্সফামের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার ‘হটস্পট’গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইয়েমেন। গতবছর প্রতি ১০ লাখের মধ্যে সেখানে চরম সংকটের সম্মুখীন ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির দুই-তৃতীয়াংশই ক্ষুধার সম্মুখীন। মধ্যম বা উচ্চমাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছে ২০ লাখের বেশি শিশু।

ইয়েমেনের পাশাপাশি ভারত, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলও চরম ক্ষুধার সম্মুখীন। আফগানিস্তানে সীমান্ত বন্ধ থাকায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে খাদ্য সরবরাহ। পাশ্ববর্তী দেশ ইরানে অর্থনৈতিক মন্দায় কমেছে রাজস্ব। সবমিলিয়ে চলতি বছর দুর্ভিক্ষের দারগোড়ায় রয়েছে ৩৫ লাখ আফগান। চলতি বছরের জুন মাস অবধি জরুরি সহায়তার প্রয়োজন পড়েছে দেশটির ৯৩ শতাংশ পরিবারের।
অচক্সফাম জিবির প্রধান নির্বাহী ড্যানি শ্রিসকান্দারাজাহ বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাব ভাইরাসের চেয়েও বহুগুণ বেশি বিস্তৃত। তবে এর মধ্যেও লাভ করে যাচ্ছে শীর্ষ ধনীরা। পানীয় ও খাদ্য বিষয়ক বিশ্বের শীর্ষ ৮টি প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের শুরু থেকে এখন অবধি তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে।