গণধর্ষণে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ রণক্ষেত্র

73

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের চোপড়া।বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।বিক্ষোভকারীরা অন্তত তিনটি বাসসহ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করে। তীর-ধনুক দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়।

রোববার শিলিগুড়ির ৩১ নম্বর জাতীয় মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চোপড়া এলাকা দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি ওই স্কুলছাত্রীর বড় বোনের বরাত দিয়ে জানায়, গত শনিবার রাতে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজতে থাকে পরিবারের সদস্যরা। পরে একটি গাছের নিচে তার দেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি সাইকেল এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন। সেগুলো পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।

এদিকে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানায়, শনিবার রাতে বাড়ি থেকে জোর করে বছর পনেরোর ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় এক দুষ্কৃতী। বাড়ির পাশেই একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ওই নাবালিকাকে জোর করে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোরীকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর পাঠান। ইসলামপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

খবরে বলা হয়েছে, স্কুলছাত্রীর বিক্ষোভের ঘটনায় দুপুর থেকে প্রায় দুঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। যদিও তাতে বিক্ষোভ থামেনি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে বাধ্য হয় পুলিশ।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা অন্তত তিনটি বাস ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।এ ছাড়া চোপড়ায়ও বিক্ষোভ হয়।

পুলিশ দাবি করছে, বিকাল ৫টা নাগাদ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, বিষের প্রভাবেই মৃত্যু হয়েছে ওই ছাত্রীর। দেহে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধর্ষণ বা কোনোরকম শারীরিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।