কামালা হ্যারিসকে নিয়ে আশাবাদী ডেমোক্রেটরা

57

প্রথমবারের মতো ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় কনভেনশনে দাঁড়াবেন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত সিনেটর কামালা হ্যারিস। আগামী মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে কামালা হ্যারিস নিজেকে আমেরিকার জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন। ভারতীয় মা ও জ্যামাইকান বাবার মেয়ে হিসেবে আমেরিকায় নিজের বেড়ে ওঠার সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা জানাবেন। বলবেন আমেরিকার প্রথম কোনো অশ্বেতাঙ্গ নারীর ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাওয়ার অভিযাত্রার কথা। আসন্ন নির্বাচনে জো বাইডেনকে সব আমেরিকানের সামনে একজন যোগ্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরবেন।

নাম ঘোষণার পর কামালা হ্যারিস বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে দেশের অবস্থা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? বর্তমান প্রেসিডেন্ট করোনা মহামারি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমেরিকার এক কোটি ষাট লাখ লোক কর্মহীন। লাখ লাখ শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না। দারিদ্র্য, গৃহহীনতা আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ, বাদামীসহ অনগ্রসর মানুষকে তাড়া করছে। যখন বিশ্বের অন্য দেশ মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করছে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমস্যার সমাধানের জন্য কোনো অলৌকিক প্রদীপের দিকে তাকিয়ে আছেন।’

কামালা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে তাঁকে আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিভিন্ন ভোটার গ্রুপের সঙ্গে, বিশেষত তরুণ ভোটারদের সঙ্গে জো বাইডেনের সংযোগ তৈরিতে জোর প্রয়াস চালাচ্ছেন।

ডেমোক্রেটিক দলের কৌশলবিদ স্টিভ জারডিং বলেছেন, ‘স্বভাবজাত সহজ সরল পন্থাতেই জো বাইডেন নিজেকে উপস্থাপন করছেন। অশ্বেতাঙ্গ ও তরুণদের উদ্দীপ্ত করতে তাঁকে যে কামালা হ্যারিসের ওপরই নির্ভর করতে হবে, তা কনভেনশন মঞ্চেই স্পষ্ট হবে। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা বা শুধু সমর্থন থাকলেই হবে না, লোকজনকে উদ্দীপ্ত করতে হবে। জো বাইডেনের প্রচারশিবিরের এ দায়িত্বটা এখন কামালা হ্যারিসের ওপরই এসে পড়েছে এবং তিনি এ কাজ করতে পারবেন বলে ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন।’

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনের সময় কৃষ্ণাঙ্গসহ সব অশ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষ ও তরুণেরা উদ্দীপ্ত হয়েছিল। তেমনি একটি উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই জো বাইডেনের নির্বাচনে সাফল্য নিশ্চিত হতে পারে। সিনেটর কামালা হ্যারিস এ কাজটিই করতে সক্ষম হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেমোক্রেটিক দলের নতুন ধারার নেতা হিসেবে কমলা হ্যারিস এরই মধ্যে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসতে পেরেছেন। আমেরিকার ডেমোক্রেটিক পার্টিতে বনেদি নেতৃত্বের বাইরে নতুন প্রজন্মের উদারনৈতিক ঘরানার লোকজনের যোগসূত্র হিসেবে তাঁকে দেখা হচ্ছে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ডেমোক্রেটিক দলও নতুন নেতৃত্বের দল হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

একজন দক্ষ বক্তা হিসেবে পরিচিতি আছে কামালা হ্যারিসের। নেতিবাচক বিষয়কেও তিনি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। জো বাইডেন স্পষ্টভাষী হিসেবে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। এ দুইয়ের সমন্বয়ে ডেমোক্রেটিক দলে নতুন উদ্দীপনা আসবে। ৭৭ বছর বয়সী জো বাইডেনকে ডেমোক্রেটিক দলের বনেদি নেতাদের শেষ প্রতিনিধিদের একজন বলে মনে করা হচ্ছে। আর ৫৫ বছর বয়সী কামালা হ্যারিস এ দলটিতে যুক্ত করবেন নতুন ধারা।

কামালা হ্যারিসের নাম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, জো বাইডেন সবচেয়ে নিরাপদ একজনকেই পছন্দ করেছেন। তিনি ঝুঁকি নিতে চাননি। কামালা হ্যারিসকে নিয়ে জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে যাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস রচিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে জো বাইডেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জাতীয়ভাবে নয় পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। আমেরিকার রাজনীতির স্বাভাবিক ধারায় এ জনমত জরিপ কোনোভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির কারণ নয়। আগামী দু মাসে বড় কোনো পরিবর্তন না ঘটলে জো বাইডেন কামালা হ্যারিসকে নিয়ে হোয়াইট হাউসে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।