করোনার চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির অনুমোদন দিলো যুক্তরাষ্ট্র

97

করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) স্থানীয় সময় রোববার জরুরি ব্যবহারের জন্য এ থেরাপির অনুমোদন দেয়। এই থেরাপিতে, করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের রক্ত থেকে অ্যান্টিবডি সমৃদ্ধ প্লাজমা করোনা রোগীদের দেহে প্রয়োগ করা হয়। এখন অবধি ৭০ হাজার মানুষের ওপর এ থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

এফডিএ’কে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, প্রাথমিক পরীক্ষা থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, প্লাজমা থেরাপি নিরাপদ। যদিও এর কার্যকারিতা প্রমাণ করতে আরো পরীক্ষা দরকার। বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ পরীক্ষায় এর অধিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে টিকা ও থেরাপি আটকে রেখেছে এফডিএ।

এর একদিন পরই এফডিএ প্লাজমা থেরাপির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। রোববার থেরাপিটি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি বহুদিন ধরে এটা করতে চেয়েছিলাম। চীনা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে একটি সত্যিকারের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিতে পেরে আমি আনন্দিত। এটা অনেক প্রাণ বাঁচাবে। তিনি প্লাজমা থেরাপিকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে বর্ণনা করেন ও আমেরিকানদের প্লাজমা দান করার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, এই থেরাপির আওতায় মৃত্যুর হার ৩৫ শতাংশ হ্রাস পায়। উল্লেখ্য, এখন অবধি বিশ্বে করোনার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫৭ লাখ মানুষ, মারা গেছেন ১ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন ভাইরাসটি মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার সমালোচনায় জর্জরিত হয়েছে।

এফডিএ প্লাজমা থেরাপি কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। থেরাপিটি সর্বজনীনভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০ হাজার রোগীর ওপর থেরাপিটি প্রয়োগ করে দেখা গেছে এটি নিরাপদ। এফডিও জানায়, ৮০ বছরের কম বয়সী করোনা রোগী, যাদের রেসপাইরেটর দরকার পড়ছে না, তাদের ওপর অ্যান্টিবডি সমৃদ্ধ প্লাজমা প্রয়োগে দেখা গেছে তাদের বেঁচে যাওয়ার হার একমাসে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্ক ফোর্সের সদস্য ড. অ্যান্থনি ফাওচিসহ অনেক বিশেষজ্ঞ গবেষণাগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।