করোনা মোকাবিলা নিয়ে ট্রাম্প-বাইডেন দুই মেরুতে

81

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান করছেন দুই দলের দুই প্রার্থী। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বলছেন, সব স্বাভাবিক আছে। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেন বলছেন, উন্নত দেশ হিসেবে আমেরিকায় এত মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। জনগণের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা দিতে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ব্যর্থতার কথা তিনি তুলে ধরছেন।

গত মার্চ থেকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া করোনার সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। প্রকৃত হিসাবে মৃত্যু এর চেয়েও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ডিসেম্বরের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা তিন লাখ অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় ট্রাম্প ও বাইডেনের দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্ন। জো বাইডেন মাস্ক পরে জনসমক্ষে যাচ্ছেন। বাইডেন অঙ্গরাজ্য গভর্নরদের মাস্ক বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে কদাচিৎ মাস্ক ব্যবহার করেন। গত সপ্তাহে দলের মনোনয়ন গ্রহণ করে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মাস্কহীন লোকজনের সমাবেশ ছিল।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আবার লকডাউনে গিয়ে হলেও করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করার পক্ষে জো বাইডেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লকডাউনকে বিবেচনায় আনতে নারাজ। লকডাউন নিয়ে কথা বলার জন্য ট্রাম্প জো বাইডেনের কড়া সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রতিরোধমূলক সামগ্রীর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করছেন। টেস্টিং সামগ্রীও সহজলভ্য করছেন।

যদিও বেশি টেস্টিং করার পক্ষে নন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বেশি টেস্ট করলেই বেশি লোক সংক্রমিত হয়েছে বলে দেখা গেছে।
জো বাইডেনের প্রচার শিবির থেকে বলা হচ্ছে, তারা তথ্যভিত্তিক নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। কোন এলাকায় কী খুলবে, কখন খুলবে, তা খুব সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে আবার লকডাউনে গিয়ে হলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ট্রাম্প আগেই সবকিছু খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সব অঙ্গরাজ্যেই স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাওয়ার পরও প্রতিদিন মৃত্যুর তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। ৬০ লাখ লোকের মধ্যে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রতিদিনই টেস্টিং হচ্ছে। সংক্রমণের তালিকায় হাজার হাজার নাম যুক্ত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের মতে, মৃত্যু আর সংক্রমণের এই সংখ্যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনৈতিক কৌশলবিদ জ্যাক পেটকানাস বলেছেন, নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্পের সফলতা ও ব্যর্থতার ওপর গণভোট হবে।

আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবীরাও মনে করেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে আমেরিকায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নাজুক।
জো বাইডেন গত সপ্তাহে বলেছেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ মানুষের বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে। অথচ করোনাভাইরাসে বৈশ্বিক মৃত্যুর ২৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের। বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্প দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই আশাবাদের কথা শুনিয়ে আসছেন। এখন বলছেন, খুব দ্রুত সুখবরের ঘোষণা দেবেন। চাপ দিচ্ছেন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা দ্রুত শেষ করার জন্য। নির্বাচনের আগেই তিনি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন চলে এসেছে বলে ঘোষণা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নানা মহল থেকে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্টের এমন চাপ ভ্যাকসিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ ব্যাহত করবে। টিকার ওপর মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে আসবে।

মনোনয়ন গ্রহণের পর দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেন আমেরিকার সবকিছু আবার বন্ধ করে দিতে চান। এতে অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি লোকজনের কোনো কোনো স্বাধীনতা ভোগের পক্ষে।’

জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার ৫৮ শতাংশ লোকজন মনে করে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাস সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

জো বাইডেন করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্পের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ব্লিচ দিয়ে ফুসফুস পরিষ্কার করাসহ ট্রাম্প নানা সব হাস্যকর কাজ করেছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলায়।

গত সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির কনভেনশন চলাকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি অনুমোদন করেছে।

এফডিএ-প্রধান স্টিপেন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্লাজমা থেরাপি ব্যবহার করলে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৩৫ জনকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তাঁর এই বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক বলে বলেছেন মার্কিন স্বাস্থ্যসেবীরা।

এফডিএ-প্রধানের বক্তব্যের পেছনে রাজনীতি আছে বলে সিএনএন তাদের এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্যসেবীদের বক্তব্য দিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাজমা থেরাপি করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য কোনো নিয়ামক ব্যবস্থা নয়। দাতার রক্তে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি থাকা, করোনা রোগীর খুবই প্রারম্ভিক অবস্থায় এই থেরাপি প্রদানের বাধ্যবাধকতাসহ বেশ কিছু জটিলতার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।