ডাকযোগে ভোট শুরু যুক্তরাষ্ট্রে

81

ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে নর্থ ক্যারোলাইনা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকে ভোট নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে।

ডাকযোগে ভোটের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা ভোট চুরির চেষ্টা করছে বলে অনেক আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাকযোগে ভোট নেওয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তবে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য যেকোনো পদ্ধতির চেয়ে ডাকযোগে ভোট নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। কারচুপির আশঙ্কাও অনেক কম। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার ডাকে ভোট দেওয়ার গুরুত্ব বেড়েছে অনেক গুণ। এবারের নির্বাচনে এ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডাকযোগে ভোট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদের জন্য যোগ্য নন।

এবার কোটি কোটি মানুষ ডাকে ভোট দেবেন। তাই সুচারুভাবে এই ভোটদান কার্যক্রম সম্পন্ন করায় বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশটির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, করোনা মহামারির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির সেবা খাত। নতুন করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নর্থ ক্যারোলাইনা ছয় লাখের বেশি ব্যালট ডাকে পাঠানো শুরু করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে ডাকে ভোট গ্রহণ শুরুর আগে ট্রাম্প ও বাইডেন সেখানে সফর করে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে যেসব দেশ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে, তাদের মধ্যে চীন সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হোয়াইট হাউস। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বরার্ট ও’ব্রায়েন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি, চীন সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে ইরান ও রাশিয়ার চেয়েও চীন বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে।’ তবে তিনি তাঁর দাবির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি।

২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়া ট্রাম্পের হয়ে কাজ করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দারা প্রমাণ পেয়েছেন। আগামী নির্বাচনেও ক্রেমলিন ট্রাম্পকে জয়ী করার চেষ্টা চালাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো থেকে। তবে মস্কো নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করে আসছে।