বিশ্ব কাঁপানো ৯/১১ ট্র্যাজেডির ১৯ বছর

91
নিহত বাংলাদেশি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী (বাঁয়ে), মোহাম্মদ শাহজাহান এবং নূরল হক মিয়া। নিচের বাম থেকে সাব্বির আহমেদ, শাকিলা ইয়াসমিন এবং আবুল কে চৌধুরী।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ১৯ বছর হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। এ উপলক্ষে গত ১৮ বছরই নিউইয়র্কে গ্রাউন্ড জিরোতে স্মরণ সমাবেশ হয়েছে।

নিহতদের স্বজনেরা জড়ো হয়ে গ্রাউন্ড জিরোতে স্থাপিত স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শন করতেন। ভিকটিমদের নাম পাঠ করা হতো স্বজনের মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির গভর্নরসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এবার সবকিছুই সীমিত আকারে হচ্ছে করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে।
সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানে। রেকর্ডকৃত নামগুলো মাইকে ধ্বনিত হবে। মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। প্রায় ৩ হাজার ভিকটিমের স্বজনের অনেকেই থাকবেন সেখানে।

ওই হামলায় নিহত হন ৬ বাংলাদেশি। তাদের স্বজনেরাও যথারীতি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে করোনা সংক্রমণের ভীতির কারণে কেউই আসবেন বলে জানা গেছে।

নিহত বাংলাদেশিরা হলেন, নূরল হক মিয়া ও তার স্ত্রী শাকিলা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ এবং মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

এর মধ্যে মৌলভীবাজারের গ্রামের বাড়িতে শাকিলা ইয়াসমিনের স্মরণে তার বাবা শরিফ চৌধুরী গরিব ১৯টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করেছেন ‘শাকিলা আবাসন’ প্রকল্পে। ১১ সেপ্টেম্বর সেখানে দোয়া মাহফিল ছাড়াও গাজিপুরে একটি এতিমখানায় বিশেষ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত শরিফ চৌধুরী জানান।

তিনি তার জামাতা নূরল হক মিয়ার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছাতে স্থাপিত একটি মাদ্রাসায় দোয়া-মাহফিল হবে বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া সাব্বির আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী এবং মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরীর স্বজনেরা বিশেষ দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য আছে। গত বছর কোনো কোনো ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে ৫০ বাংলাদেশি, আবার কোথাও ১২ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ হয়েছে।

তবে ফেডারেল সরকারের তালিকাতে নিহত এই ৬ বাংলাদেশির নামই রয়েছে। তাদের স্বজনেরা ক্ষতিপূরণের অর্থও পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ওই দিনের হামলায় ৬ বাংলাদেশিসহ ৭৮ দেশের ২ হাজার ৯৯৬ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হয়েছিলেন ১০ হাজারের অধিক মানুষ।