এবার আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংঘাত নিয়ে বসবেন পম্পেও

141

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে চলা সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনায় বসবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

বুধবার এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। এতে বলা হয়েছে সংঘাতপূর্ণ দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে শুক্রবার ওয়াশিংটনে আলাদা আলাদা সময়ে বৈঠকে বসবেন পম্পেও।

অবশ্য এর আগে ১০ অক্টোবর মস্কোতে যুদ্ধরত সাবেক দুই সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের দেশের মধ্যে মানবিক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় বসেন রাশিয়ার পেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে সংঘাতপূর্ণ দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও কার্যত উভয় দেশের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে।

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিবাদপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ ছাড়াও বেশ কিছু এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। অস্বীকৃত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের জাতিগত আর্মেনীয় কর্মকর্তারাও মঙ্গলবার নতুন করে শেল হামলা হওয়ার দাবি করেছেন। তারা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের দক্ষিণের এলাকাগুলোতে লড়াইয়ের মাত্রা বেড়েছে।

এমন অবস্থায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পম্পেওর আলাদা বৈঠক করার কথা রয়েছে। তবে আর্মেনীয় এবং আজেরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে অপরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন কিনা তা জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বৈঠকের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়।পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

১১ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরস্পরকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘেনের জন্য অভিযুক্ত করে।

দ্বিতীয়বারের মতো শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত থেকে যুদ্ধবিরতির পরপরই গানজাতে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জন। এরপরই দুই দেশের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়।

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে।ওই দশকেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।