‘রায়হানকে আমি একা মারিনি, পাঁচ-ছয় জন মিলে মাইর দিছে’

202

রায়হানকে আমি একা মারিনি, ৫-৬ জন মিলে মাইর দেয়ার পর সে মরে গেছে। ধরা পড়ার পর এমন কথা বলেছেন বরখাস্তকৃত এস আই আকবর। তিনি বলেন, সিনিয়র এক অফিসারের পরামর্শে তিনি পালিয়ে যান। কাটাইঘাট এলাকা সংলগ্ন ভারতের দনা সীমান্ত এলাকায় খাসিয়াদের হাতে আটকের পর এমন স্বীকারোক্তি দিলেন আকবর ।
আকবর হোসেন ভূঁইয়ার মুখে দাঁড়ি, গলায় মালা পরিহিত। খাসিয়ারা তাকে পায়ে ও কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন বলে সীমান্ত সূত্র জানায়।

“আল্লাহর কসম ভাই, আমি ভাগব না’, খোদার কসম ভাই, ভাগব না’ বলে আটকের পর খাসিয়াদের অনুরোধ করেন এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া।

খাসিয়ারা যখন তাকে ধরি দিয়ে বেঁধে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এসময় আকবর ধরি দিয়ে না বেঁধে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেন। কোন অপরাধে রায়হানকে মারা হলো জানতে চাইলে খাসিয়াদের আকবর বলেন, আমি মারিনি ভাই, আমি ইচ্ছা করে একা মারিনি। তারে মেরেছে ৫-৬ জন। পাবলিক মেরেছে তাই সে মরে গেছে।

আমি বরং তাকে হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু ওখানে সে মরে গেছে। সে টাকা ছিনতাই করেছিলো।’ তাহলে পালিয়েছ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আকবর বলেন, ‘আমারে এক সিনিয়র অফিসার বলেছেন সাসপেন্ড করেছে। গ্রেপ্তার করতে পারে। তাই তুমি আপাতত চলে যাও। কদিন পরে আইসো। ২ মাস পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন আইসো।’

সূত্র মতে রবিবার গভীর রাতে ভারতের দনা সীমান্ত এলাকার খাসিয়াদের হেডম্যানরা রায়হান হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত এসআই আকবরকে আটক করে তাদের হেফাজতে রাখে। পরে সোমবার বেলা একটার দিকে ভারতীয় খাসিয়ারা আকবরকে বাংলাদেশ সীমান্তে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীসহ লোকজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

পরে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের একটি টিম তাকে জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

এ ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

এদিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন। মামলাটি পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।