ঢাকায় হাবিব সিরাজগঞ্জে জয় নির্বাচিত

226

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর শাকিল জয়। গতকাল এ দুটি আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তবে ভোট কেন্দ্রগুলোর বাইরের অবস্থা ছিল অন্যরকম। ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে কেন্দ্রগুলাতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বাইরে ও কেন্দ্রের ভিতরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস স্কুলে তিনটি নির্বাচনী কেন্দ্র। যদিও এই কেন্দ্রে অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় কিছু ভোট পড়েছে।

কিন্তু বাকিগুলোর দৃশ্য সেই পুরনো। এসব কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রগুলোর সামনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে দেয়া হচ্ছিল শোডাউন। সকাল পৌনে ১০টায় উত্তরায় ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস স্কুল এন্ড কলেজে ভোট দিতে এসে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। এ সময় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে দল বেঁধে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। কয়েকজন নেতাকর্মীকে দল বেঁধে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা ওই প্রার্থীর সঙ্গে এসেছেন বলে জানান। আওয়ামী লীগের ওই প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান বিষয়টি স্বীকার করে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমিতো নেতাকর্মীদের না করেছি। কিন্তু চলে আসলে কি করবো। নির্বাচন তো এক ধরনের উৎসব। এদিকে সরজমিন কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ওই প্রার্থী নেতাকর্মী নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নীরব ভূমিকায় দেখা যায়। কেন্দ্রটির একজন প্রিজাইডিং অফিসার রফিকুল বলেন, আমার কেন্দ্রের আশেপাশে কেউ আসেনি। কিন্তু মাঠে আমি নেতাকর্মী দেখেছি। তবে সেটা তো আমার এখতিয়ারের মধ্যে নেই।
এ?দি?কে কেন্দ্রটির দা?য়ি?ত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমান বলেন, আ?মি কাউকে দে?খি?নি। এখা?নে বেশির ভাগই গণমাধ?্যমকর্মী। উত্তরা ১১ নাম্বার সেক্টরে মাইলস্টোন কলেজের সামনেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আচরণ বিধি লঙ্ঘন করতে দেখা গেছে। ক্ষণে ক্ষণে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে রাস্তায় যানজট তৈরি করেছে। ওই কেন্দ্রে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু ভোটারের উপস্থিতি তেমন একটা ছিল না। এদিকে তুরাগের কিশলয় একাডেমি স্কুলে নারী ভোটকেন্দ্র। এই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে। সেখানেও ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না গণমাধ্যমের কোনো কর্মীকে।
অন্যদিকে, উত্তরার টাচ্‌স্টোর কলেজের কেন্দ্রটিতে দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ভোটগ্রহণ বন্ধ ক?রে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। দুপুর দেড়টার দি?কে উত্তরায় ৯ নাম্বার সেক্ট?রের এই কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, ওই ক?লে?জের দুই?টি কেন্দ্রেই নির্বাচন সং?শ্লিষ্টরা কেউ খা?চ্ছেন, আবার কেউ খাবারের প্রস্তুতি নি?চ্ছেন। ভবন?টির দোতলায় গি?য়েও একই দৃশ?্য দেখা মি?লে। ফ?লে একজন ভোটার?কে অ?পেক্ষা কর?তে দেখা যায়। ওই নারী ভোটার জানান, খাবার শেষে তার ভোট?টি গ্রহণ করা হ?বে বলে জানিয়েছেন সং?শ্লিষ্টরা। প্রিজাই?ডিং অ?ফিসারের রুমের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দরজা বন্ধ ক?রে তি?নিও দুপু?রের খাবার খা?চ্ছেন। য?দিও গণমাধ্যমের কথা শু?নে তি?নি খাবার রেখে কথা বল?তে আসেন।? কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অ?ফিসার সাইফুর রহমার ব?লেন, আমরা শিফট ক?রে খা?চ্ছি। এ?তে ভোট দি?তে আসা ভোটার?দের কো?নো সমস?্যা হ?চ্ছে না।
একই ক?লে?জের চতুর্থ তলায় পুরুষ ভোটার কেন্দ্রটিতে একই অবস্থা। সেখা?নে গি?য়ে?ও দেখা যায়, সহকারী প্রিজাইডিং অ?ফিসাররা ভোট গ্রহণ বন্ধ ক?রে খাওয়া দাওয়া কর?ছেন। কেন্দ্রটির প্রিজাই?ডিং অ?ফিসার মাহমুদ হোসাইন ব?লেন, সবাই দুপ?রের খাবা?র খাচ্ছে, কারণ ভোটা?রের চাপ নেই। যার কারণে দুপু?রের খাবারটা খে?য়ে ফেলছি। জানা ?গে?ছে, পুরুষ ভোটা?রের এই কেন্দ্রটিতে ২১৪৪ ভোটার।? দুপুর ১টার মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ ভোট প?ড়ে?ছে। এদিকে ভোট চলাকালীন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে সাড়ে এগারোটার দিকে আব্দুল্লাহপুরের মালেক বানু আদর্শ বিদ্যা নিকেতন কেন্দ্রের সামনে ১৮টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ভোটার ও আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত হয়নি। তবে ভোটাররা ককটেলের শব্দে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান।
অন?্যদি?কে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন আবদুল্লাহপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনে কেন্দ্রে প?রিদর্শন ও ভোট প্রদান শে?ষে অভিযোগ ক?রে ব?লেন, ভোটের পরিবেশ নেই। তারা তাদের দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে, জনগ?ণের গণতন্ত্র হরণ করেছে, ভোটাধিকার হরণ করেছে। সকাল থেকে কোনো কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্টকে ঢুকতে দিচ্ছে না। দুই একটা কেন্দ্রের এজেন্ট গেছে তাদের বের করে দেয়া হচ্ছে, পুলিশ গিয়ে ধমকাচ্ছে আর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গিয়ে বের করে দিচ্ছে।
ত?বে এসব অ?ভি?যোগ উড়ি?য়ে দি?য়ে?ছেন আওয়ামী লী?গ প্রার্থী হা?বিব হাসান। তি?নি ওই কেন্দ্রটিতে ভোটা?ধিকার প্রয়োগ ক?রেন। এরপর তি?নি বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এটা তাদের অতীতের কথা, তারা নির্বাচন আসলেই এ ধরনের কথা বলেন। বিএনপি’র বহিরাগতের আগমনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে জনগণ আছে বহিরাগত আমাদের প্রয়োজন নেই। তারা এনেছে বহিরাগত। আমরা কোনো এজেন্ট বের করে দেইনি। মানুষ উচ্ছ্বাস নিয়ে তাদের ভোট প্রয়োগ করছে।
ফের নির্বাচনের দাবি বিএনপির: ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ আমান সংবাদ সম্মেলন করে ফের নির্বাচনের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী আব্দুস সালামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।