ডিসেম্বরে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

162

করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মাসের প্রথমার্ধে মানুষকে এই টিকা দেওয়া শুরু হবে। প্রথম ধাপে স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের এই টিকা দেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে।

এরই মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে, যার কার্যকারিতা ৯০ শতাংশের বেশি। এখনো অবশ্য কোনোটিরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে এরই মধ্যে ভ্যাকসিন বিতরণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। আগামী মাসের শুরুর দিকেই দেশটিতে প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মার্কিন নাগরিকদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু করতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। গতকাল রোববার এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের এ সম্পর্কিত সংস্থার প্রধান বলেন, আগামী মাসের শুরুর দিকেই স্বাস্থ্যকর্মী ও উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এমন লোকেদের করোনার টিকা দেওয়া হবে
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মার্কিন নাগরিকদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু করতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। গতকাল রোববার এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের এ সম্পর্কিত সংস্থার প্রধান বলেন, আগামী মাসের শুরুর দিকেই স্বাস্থ্যকর্মী ও উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এমন লোকেদের করোনার টিকা দেওয়া হবে।

করোনা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের গঠিত বিশেষ উদ্যোগ ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনসেফ স্লাউই বলেন, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যেই মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ইনকরপোরেশন ও জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিনের অনুমোদন হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। এই অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় ভ্যাকসিনটি পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে স্লাউই বলেন, ‘আগামী ১১ বা ১২ ডিসেম্বর অনুমোদনের এক থেকে দুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ভ্যাকসিনটি পেতে শুরু করবেন বলে আমি আশা করি।’
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম নিরাপদ ভ্যাকসিনের ঘোষণাটি আসে ফাইজারের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে ৯৫ শতাংশ কার্যকর। এর পরপরই ৯৫ শতাংশ কার্যকর আরেকটি করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেয় মডার্না। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই প্রতিষ্ঠানও তাদের ভ্যাকসিনের অনুমোদন চাইবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ আরেকটি ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা এসেছে আজ সোমবার ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার কাছ থেকে। তাদের দাবি, তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটি ৯০ শতাংশ কার্যকর। এ সম্পর্কিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই ঘোষণা অনেক বড় আশা নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষ আরেকটি অস্ত্র পেল। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিনটির উৎপাদন ব্যয় অন্যগুলোর চেয়ে কম। একই সঙ্গে এটি সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে বহন করা সম্ভব।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানায়, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে এক মাসের বিরতিতে তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের প্রয়োগে ৯০ শতাংশ সাফল্য দেখিয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা বাজারে ২০ কোটি ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারবে। আর ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকের আগেই সারা বিশ্বে তারা ৭০ কোটি ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবে।

নিশ্চিতভাবেই এই তিন ভ্যাকসিনের মধ্যে সবার আগে অনুমোদন পাবে ফাইজার। মনসেফ স্লাউইর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে এই ভ্যাকসিন প্রথম চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যগত উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এমন ব্যক্তিদেরও এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে শুরুতেই।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে এই সময়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। আসছে বৃহস্পতিবার দেশটিতে থ্যাংকসগিভিং ডে পালিত হবে। এই উৎসব উপলক্ষে বরাবরের মতোই মার্কিনরা নানা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া করোনা সংক্রমণের এক-চতুর্থাংশই শনাক্ত হয়েছে শুধু নভেম্বরেই। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আড়াই লাখের বেশি মানুষ। এ অবস্থায় আসন্ন উৎসবের মৌসুমে সবাইকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।