আফগান শিশু ‘হত্যার’ ছবি পোস্ট করে টুইট চীনের, অস্ট্রেলিয়া বলছে ভুয়া

145

একজন অস্ট্রেলিয় সেনাসদস্য এক আফগান শিশুকে হত্যা করছে- এরকম একটি ‘ভুয়া’ ছবি দিয়ে চীন সরকার তাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করেছে অভিযোগ করে চীনকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয় সেনাবাহিনীর হাতে আফগানিস্তানে নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও বন্দিদের হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে ছবিটিতে সেটার উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, এ ধরনের ‘ঘৃণ্য’ ছবি টুইটারে শেয়ার করার জন্য চীনের ‘গভীরভাবে লজ্জা’ বোধ করা উচিত। দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকার প্রাক্কালে এ ঘটনা ঘটল। খবর বিবিসির।

এ মাসের গোড়ার দিকে একটি রিপোর্টে বলা হয়, ২০০৯ ও ২০১৩ সালের মধ্যে ২৫ অস্ট্রেলিয় সেনা আফগানিস্তানের ৩৯ বেসামরিক নগারিক ও বন্দিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিল বলে তারা ‘নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রমাণ’ পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের (এডিএফ)-এর তদন্তে বেরিয়ে আসা এ তথ্য ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে। এ তথ্য এখন পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

সোমবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিজিয়ান ঝাও সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ান একজন সেনাসদস্যকে রক্ত মাখা একটা ছুরি এক শিশুর গলার কাছে ধরে আছে। আর শিশুটি একটি ভেড়াকে ধরে আছে। তবে অস্ট্রেলিয়া দাবি করেছে, ছবিটি বানোয়াট।

অস্ট্রেলিয় সৈন্যদের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের দুই আফগান কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার যে অভিযোগ খবরে এসেছিল, সেটি তুলে ধরার লক্ষ্যে চীন ছবিটি পোস্ট করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের এক খবরে বলা হয়েছিল, এডিএফ-এর প্রতিবেদনে ওই অভিযোগের সমর্থনে কোনো তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়নি।

তবে এডিএফ অস্ট্রেলিয় সেনাবাহিনীর হাতে ‘অবৈধ হত্যার’ এবং বাহিনীর মধ্যে ‘যুদ্ধবাজ সংস্কৃতির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ’ পেয়েছে। তাদের রিপোর্টে আনা অভিযোগে বলা হয়, অধস্তন সেনাদের তাদের প্রথম হত্যার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বন্দিদের গুলি করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

ঝাওয়ের ওই টুইটে বলা হয়েছে, ‘অস্ট্রেলিয় সৈন্যদের বেসামরিক আফগান নাগরিক এবং বন্দিদের হত্যার ঘটনা মর্মান্তিক। আমরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে টুইটারকে পোস্টটি তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ”এটা একটা ভুয়া ছবি, যা আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য চরম অপমানজনক। পোস্টটি প্রকৃত অর্থে ‘কদর্য, গভীরভাবে অপমানসূচক ও খুবই আপত্তিকর। এই পোস্ট দেওয়ার কারণে চীনা সরকারের লজ্জাবোধ করা উচিত। বিশ্বের মানুষের কাছে এতে তাদের ভাবমূর্তি ছোট হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, ”যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য অস্ট্রেলিয়া একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে, যেটা যে কোনো ‘গণতান্ত্রিক, উদারমনা দেশের’ কাছে কাম্য।”

স্কট মরিসন বলেন, ”চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সম্পর্কে ‘নিঃসন্দেহে’ উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার মানে এই নয় যে এভাবে সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।” চীনকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশ অস্ট্রেলিয়ার প্রতি চীনের আচরণের ওপর দৃষ্টি রাখছে।’