ফাইজারের পর টিকার অনুমোদন চাচ্ছে মডার্না

149

মার্কিন ওষুধ কোম্পানি মডার্না তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের অনুমোদনের জন্য আজ সোমবার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কাছে আবেদন করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে মডার্নার ভ্যাকসিন ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ ও কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যাওয়া থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এখন বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের পরিচালিত পরীক্ষার যাবতীয় তথ্য সংযুক্ত করে ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ শুরুর জন্য অনুমোদন চাইবে মডার্না।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে মডার্নার ভ্যাকসিন ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ ও কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যাওয়া থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে
এ বিষয়ে এফডিএর ভ্যাকসিন সম্পর্কিত উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ড. পল অফিট সিএনএনকে বলেন, ‘এটা দারুণ। এই তথ্যগুলো সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।’

এত দিন পরিচালিত গবেষণা ও পরীক্ষার পর পাওয়া সব তথ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন মডার্নার প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ড. টাল জ্যাকস। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি কেঁদেছি। এই মহামারির গতিপথ বদলে দেওয়ার পূর্ণ প্রত্যাশা আমাদের ছিল।’
এর আগে আরেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফাইজার করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন চেয়ে এফডিএর কাছে আবেদন করে। গত ২০ নভেম্বর করা ফাইজারের ওই আবেদনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া তথ্যেও সংশ্লিষ্ট ভ্যাকসিনের উচ্চ কার্যক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ডিসেম্বরেই সভায় বসবে এফডিএর এ-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি। ফাইজারের আবেদন নিয়ে ১০ ডিসেম্বর ও মডার্নার আবেদন নিয়ে ১৭ ডিসেম্বর সভায় বসবে কমিটি। ওই সভাতেই ফাইজার ও মডার্নার আবেদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরেই করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি।

এদিকে মডার্না তাদের ভ্যাকসিনের অনুমোদনের জন্য ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সির কাছেও আবেদন করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে।

মডার্নার বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার পর মডার্না তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের উচ্চ কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ পর্যায়ে মোট ৩০ হাজার লোকের মধ্যে পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে যে ১৫ হাজার লোককে ভ্যাকসিনটি দেওয়া হয়, তাদের মধ্যে মাত্র ১১ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ উপসর্গ দেখা গেছে। আর যে প্রায় ১৫ হাজারের মধ্যে প্লাসেবো দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে এই আক্রান্ত হয়েছে ১৮৫ জন। করোনা সংক্রমণ বেশি—এমন এলাকাগুলোতেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। আরও দেখা গেছে, ভ্যাকসিন পাওয়া সত্ত্বেও কোভিড-১৯ উপসর্গ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের কেউই গুরুতর অসুস্থ হননি। অন্যদিকে প্লাসেবো পাওয়ার পর অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্তত ৩০ জনের মধ্যে গুরুতর উপসর্গ দেখা গেছে।

ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও কিছু লোক কেন কোভিড আক্রান্ত হচ্ছেন, তা দেখতে হবে। এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে
ড. পল অফিট, এফডিএর পরামর্শক কমিটির সদস্য ও পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ
এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মডার্না বলছে, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন করোনা প্রতিরোধে ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ কার্যকর। আর গুরুতর পর্যায়ের কোভিড আক্রান্ত হওয়া থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এটি শতভাগ সুরক্ষা দেয়।

ফাইজারের তৈরি ভ্যাকসিনও খুবই আশার জন্ম দিয়েছে। তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিএনএন জানায়, দুটি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিনেরই মূল ভিত্তি এমআরএনএ। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি ডোজ দিতে হবে। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথাসহ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

এফডিএর পরামর্শক কমিটির সদস্য ও পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ ড. পল অফিট সিএনএনকে বলেন, ‘ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও কিছু লোক কেন কোভিড আক্রান্ত হচ্ছেন, তা দেখতে হবে। এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কোন শারীরিক অবস্থার কারণে তাদের শরীরে ভ্যাকসিনটি পুরোপুরি কাজ করছে না—এটা অনেক বড় প্রশ্ন। এটা কি বয়স, নাকি কোনো বিশেষ জাতিগোষ্ঠীর হওয়া, নাকি ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগের কারণে হচ্ছে, তা খুঁজে দেখতে হবে।’

মডার্না ও ফাইজার তাদের তৈরি ভ্যাকসিনের অনুমোদন পেলে বিষয়টি যাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) কাছে। তারা এর বিতরণ প্রক্রিয়াসহ কারা কোন ধাপে পাবে, তা নির্ধারণ করে দেবে। সিডিসির এই নির্দেশনা পাওয়ার পর, সে অনুযায়ী ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু হবে।