পদত্যাগ করতে পারেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার

158

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ এই আইন কর্মকর্তা বলেই ফেলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার মতো কারচুপির কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।

নির্বাচনে হারের শঙ্কা তৈরির পর থেকে ট্রাম্প ভোটে কারচুপির অভিযোগ শুরু করেন। এখনো তিনি একই অভিযোগ করে চলেছেন। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে তিনি ও তাঁর নির্বাচনী শিবির কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

উইলিয়াম বারের মন্তব্যে চরম খেপেছেন ট্রাম্প। এর জের ধরে ২ ডিসেম্বর হোয়াইট হাউসে অ্যাটর্নি জেনারেল বারের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ট্রাম্প।

সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ২০ জানুয়ারির আগেই পদত্যাগ করতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন সাংবাদিক গত সপ্তাহে প্রশ্ন করেছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের ওপর তাঁর আস্থা বহাল আছে কি না। উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে কয়েক সপ্তাহ পরে প্রশ্ন করার জন্য বলেছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উইলিয়াম বার। ২০১৯ সালে অনেকটা অবসর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর অস্থির প্রশাসন থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনকে বরখাস্ত করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে উইলিয়াম বার ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে রাজনীতিকরণের অভিযোগ উঠে। ট্রাম্পের বন্ধু রোজার স্টোন ও ট্রাম্প প্রশাসনের সে সময়ের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিচার ও দণ্ড নিয়ে উইলিয়াম বার সমালোচনার মুখে পড়েন।

৩ নভেম্বর নির্বাচনের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনের ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। নির্বাচনে পরাজয় না মেনে তাঁর এ দাবি নিয়ে একের পর এক মামলা করছেন। তাঁর এসব মামলা আদালতে খারিজ হয়ে যাচ্ছে বা আদালত মামলা গ্রহণ করছেন না।

নিজের প্রশাসনের শীর্ষ আইন কর্মকর্তার নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়নি বলে স্বীকার করে নেওয়া ট্রাম্পের জন্য ছিল চরম অপমানের।

গত সপ্তাহ থেকেই আলোচনা চলছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারকে বরখাস্ত করতে পারেন। সিএনএন তাদের এ সংক্রান্ত সংবাদে বলেছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ এ মুহূর্তে উইলিয়াম বারকে বরখাস্ত না করার পরামর্শ দেওয়ায় তা এখনো স্থগিত রয়েছে।

সম্পর্কের চরম অবনতির কারণেই অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার নিজে থেকেই সরে যাবেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলছে।