ক্যালিফোর্নিয়ার আইনসভায় ইমাম নিয়োগ, ইতিহাস রচনা

180

ক্যালিফোর্নিয়ার আইনসভায় একজন মুসলিমকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্মানজনক এই পদে ইতিহাস রচনা করলো ক্যালিফোর্নিয়া। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নিয়োগ পাওয়া ওই মুসলিম ইমামের নাম মোহাম্মদ ইয়াসির খান। গত ৭ ডিসেম্বর আইনসভায় প্রথম ইমাম হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২০২১ থেকে ২২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভার স্পিকার অ্যান্থনি রেন্ডন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘আমি আমার নিজ রাজ্যে ইসলামের বৃদ্ধি দেখেছি। খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ইয়াসির খান ক্যালিফোর্নিয়ায় অবদান রাখতে চান।’

আইনসভায় ইমামের কাজ মূলত প্রতিটি অধিবেশন শুরুর আগে দোয়া পাঠ করা। তবে ইয়াসির খানের আশা, এটি মুসলিমদের অন্য সম্প্রদায়গুলোর আরো কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেবে।

সিএনএনকে ইয়াসির খান বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। আমি এই ভূমিকার জন্য নির্বাচিত হওয়ায় কৃতজ্ঞ। আশা করি এটি দেশের অন্যান্য ইমাম ও অন্যান্য ইসলামী নেতাদের পদ গ্রহণের জন্য একটি পদক্ষেপ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে এই ধারণা বিকাশ করা যে, তারা সবাই আমেরিকান। তারাও মার্কিন সমাজে অবদান রাখতে পারে। তারা দারিদ্র্য দূর করার বিষয়ে পদক্ষেপ রাখে।’

ইয়াসির খান বলেন, ‘আমরা মুসলিমরা আমাদের সহকর্মী মার্কিনীদের দেখাতে চাই যে, আমরা যা করি তা আন্তরিকভাবে করতে চাই। সবার জন্য বিশ্বকে আরো ভাল জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা আমেরিকাতে বসবাসকারী মাত্র একটি সম্প্রদায় নই। আমরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।’

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) স্থানীয় নির্বাহী পরিচালক বাসিম এলকারা বলেন, ‘আমেরিকান মুসলিমরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এই নিয়োগ সেটারই বার্তা। ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে গত চার বছরে মুসলিমরা এত ঘৃণার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সম্প্রদায় দৃঢ় রয়েছে।’

ইয়াসির খান গত ছয় বছর ধরে স্থানীয় কাউন্টি কারাগার, শেরিফ অফিস ও বিভিন্ন হাসপাতালে ইমাম হিসেবে কাজ করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন আল-মিসবাহ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা।

এই সংস্থা স্যাক্রামেন্টো ফুড ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানীতে খাদ্য বিতরণে কাজ করছে। সংস্থাটি স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে সচ্ছল করতে গাড়ি দিয়েও সাহায্য করে থাকে।