এবার ৬ জানুয়ারির দিকেই চোখ ট্রাম্পের

188

সব আশা হারিয়ে এবার ৬ জানুয়ারির দিকেই শেষ ভরসা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইং স্টেটগুলোতে বিরোধী জো বাইডেনের কাছে স্পষ্ট ব্যবধানে হেরে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরও হাল ছেড়ে দেননি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পরে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপি হয়েছে দাবি করে করা তার মামলাগুলোও প্রায় সব নাকচ হয়ে গেছে। এমনকি সম্প্রতি তার দাবি অমূলক অভিহিত করে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিমকোর্টও।

সর্বশেষ সোমবার বাইডেনের পক্ষেই পড়েছে ইলেকটোরাল কলেজের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট। যার মধ্য দিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে তার পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া। এরপরও এখনও পরাজয় মেনে নেননি। চুপ করে আছেন ট্রাম্প। তার চোখ এখন আগামী ৬ জানুয়ারির দিকেই। এটাই তার শেষ ভরসাও। নির্বাচনের ফল উল্টে তার পক্ষে নিয়ে আসতে এদিনই মার্কিন কংগ্রেসের ইলেকটোরাল কলেজের ফলাফল ট্যালি ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একাংশ। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে ট্রাম্প শিবির। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টা ট্রাম্পের জন্য খুব একটা সুবিধের হবে না।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও অনুগতদের একটি দল এখনও মনে করছেন, ট্রাম্পের রাজনীতিতে টিকে যাওয়া এবং হোয়াইট হাউসে আরও চার বছর থেকে যাওয়ার আর একটি মাত্র পথই অবশিষ্ট আছে। সেই নাটক মঞ্চস্থ হবে আগামী ৬ জানুয়ারি। তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে ওইদিন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের যে ফল জানা গেছে সোমবার সেটা এখনও ‘আনুষ্ঠানিক’ ফল নয়। এই ভোটের ফল এখন পাঠানো হবে ফেডারেল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। আগামী ৬ জানুয়ারি ইলেকটোরাল ভোট আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা করা হবে কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬ জানুয়ারির ঘটনাবলী হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোটের ফল বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে ‘শেষ সুযোগ’ এনে দিতে পারে। এমন একটি প্রয়াস নিচ্ছেন কয়েকজন সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য। তারা আরিজোনা, পেনসিলভানিয়া, নেভাদা, জর্জিয়া ও উইসকন্সিন; এই রাজ্যগুলোতে অবৈধ ভোট ও জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন যাতে অন্তত একজন সিনেটরের স্বাক্ষর থাকবে। এর লক্ষ্য হবে ওই রাজ্যগুলোর ভোট ‘ডিসকোয়ালিফাই’ বা বাতিল করা।

আলাবামা রাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর ব্রুক্স তাদের একজন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলছেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সেদিন সুপ্রিমকোর্টসহ যে কোনো আদালতের বিচারকের চেয়ে বড় ভ‚মিকা রয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের। আমরা যা বলব তাই হবে, সেটাই চূড়ান্ত।

এ ধরনের অভিযোগ উঠলে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ফলাফল প্রত্যয়ন করতে অস্বীকার করলে কী হবেÑ তা নিয়ে মার্কিন বিশ্লেষকরা নানা রকম চিত্র তুলে ধরছেন। ব্রুক্স বলছেন, ‘আমার এক নম্বর লক্ষ্য হল আমেরিকার ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা-যা ভোটার জালিয়াতি বা ভোট চুরিকে খুব সহজে মেনে নিচ্ছে- তা মেরামত করা। আর এটা থেকে একটা বোনাস মিলে যেতে পারে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকটোরাল ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে জিতে গেলেন। কারণ আপনি যদি অবৈধ ভোটগুলো বাদ দেন এবং যোগ্য আমেরিকান নাগরিকদের আইনসঙ্গত ভোটগুলোই শুধু গণনা করেন, তাহলে তিনিই জিতেছেন।’ কিন্তু বাস্তবে এ রকম কোনো প্রক্রিয়া হবে জটিল এবং দীর্ঘ।

প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিতর্ক ও ভোটাভুটি হতে হবে। কোনো একটা রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট বাতিল করতে হলে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ এবং রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটকে একমত হতে হবে। উনবিংশ শতাব্দীর পর কখনও এমনটা হয়নি।

অনুমান করা যায়, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিæকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ভোট বাতিলের চেষ্টা অনুমোদন করবে না। তাছাড়া রিপাবলিকান কয়েকজন সিনেটরও এভাবে ভোট বাতিলের প্রয়াস জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা এ চেষ্টার বিপক্ষে ভোট দিলেই জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে। ৬ জানুয়ারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন কংগ্রেসের সেই অধিবেশনে সভাপতি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। কারণ তিনিই সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে পাঠানো ইলেকটোরাল ভোটের খামগুলো খুলবেন এবং তার যোগফল ঘোষণা করবেন।

১৯৬০ সালে রিচার্ড নিক্সন এবং ২০০০ সালে আল গোরকে এভাবেই ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে নিজেদের পরাজয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর বিজয়কে প্রত্যয়ন করতে হয়েছিল। তারা এটা করতে গিয়ে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করেছিলেন।