বাংলাদেশে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের পর যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে

140

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেকোনো ভাইরাস সময়ের সাথে সাথে তাদের ধরন, গতি, প্রকৃতি পরিবর্তন করে এবং এটাই স্বাভাবিক। অন্য ভাইরাসের মতো করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ শনাক্ত হওয়া তারই ধারাবাহিকতা।

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড: সমীর কুমার সাহা যিনি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেছিলেন তিনি বলেন, ‘আগের মতোই হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। এই মুহূর্তে কিন্তু বিজ্ঞানীরা কিছু করতে পারবে না, ডাক্তাররাও কিছু করতে পারবে না। তাই আমাদেরকে সাবধান থাকতে হবে।’
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ১৭টি নতুন জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে তারা পাঁচটিতেই করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন পেয়েছেন।

পরিষদের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: সেলিম খান জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া নতুন স্ট্রেইনে যে বৈশিষ্ট্য আছে, তার সাথে বাংলাদেশে পাওয়া ভাইরাসের পুরোপুরি মিল না থাকলেও অনেকটা মিল রয়েছে।

তবে ড: সমীর কুমার সাহা বলছেন, ‘যুক্তরাজ্যের স্ট্রেইনের সাথে বাংলাদেশের নতুন এ ধরনের কোনো মিল নেই। যতগুলো সিকোয়েন্স আমরা বাংলাদেশে সবাই করেছি সেগুলো সব জিএসআইডিতে আপলোড করা হয়েছে। সেটার সাথে যুক্তরাজ্যে যে স্ট্রেইন পাওয়া গেছে তার সাথে কোনোভাবেই মিল নেই।’

এদিকে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন পাওয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বলেছে, দেশে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন এ ধরন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

নতুন এ ধরন প্রতিরোধ করার জন্য কী করছে কর্তৃপক্ষ?
ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর হোসেন বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বিমানবন্দরে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এখন। এয়ারপোর্টে পিসিআর সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে বলেছি। যারা ইংল্যান্ড থেকে আসছে তাদের ব্যাপারে এয়ারপোর্টে আমরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছি।’

নতুন এই স্ট্রেইনের খবর এমন এক সময়ে আসলো যখন করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হয়েছে এবং কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সাধারণ জনগণকে টিকা দেয়া শুরু করেছে।

এই টিকা নতুন ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধে কতটা কাজ করবে এ ব্যাপারে ড: সমীর কুমার সাহা বলেন, বড় ধরনের মিউটেশন বা পরিবর্তন না হলে নতুন ধরনের এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ইতোমধ্যে আবিষ্কার হওয়া টিকাই কাজ করবে।

যুক্তরাজ্যে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির সাথে বিমান চলাচল যখন বন্ধ করেছে কয়েকটি দেশ, তখন যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে একটি বিমান প্রায় ২০০ শ’ যাত্রী নিয়ে সিলেটে অবতরণ করলে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন।

তবে আইইডিসিআর বলছে, তাদের কাছে স্বাস্থ্যের সনদ-পত্র ছিলো। এছাড়া তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে থাকারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূত্র : বিবিসি