যুক্তরাজ্যের করোনাভাইরাসের ধরন মিলল জাপান ও ফ্রান্সে

128

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের ঢেউ চলাকালে যুক্তরাজ্যে ভাইরাসটির যে নতুন ধরন (স্ট্রেইন) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সেটি পাওয়া গেছে জাপান ও ফ্রান্সেও। জাপানে সংক্রমণের পাঁচটি ঘটনায় ও ফ্রান্সে একটি ঘটনায় এ ভাইরাসের নতুন ধরনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। খবর এএফপির।

এদিকে যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে কঠোর কোয়ারেন্টিন–ব্যবস্থা কার্যকর করা দেশগুলোর তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো রাশিয়া। ইতিমধ্যে অনেক দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভাইরাসের নতুন ধরন আরও বেশি সংক্রামক। এই আশঙ্কার মধ্যে অর্ধশতাধিক দেশ যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
চলতি বছর করোনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেলেও জাপানে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় দফা ঢেউ শুরুর পর জাপানেও দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো চলতি মাসে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণ তিন হাজার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

জাপানে যে পাঁচজন নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে সংক্রমিত বলে শনাক্ত হয়েছেন, তাঁরা সবাই সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসেছেন। তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের গণমাধ্যম। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই পাঁচজনের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও সংক্রমণের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় তুজ শহরে দেশটির একজন নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির নতুন ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সংক্রমিত এই ব্যক্তি উপসর্গবিহীন ছিলেন। তাঁকে স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে কঠোর কোয়ারেন্টিন–ব্যবস্থা কার্যকর করা দেশগুলোর তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো রাশিয়া।
এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ২১ ডিসেম্বর হাসপাতালে ওই ব্যক্তির পরীক্ষা করার পর তাঁর সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তাঁর ও তাঁকে সেবা-শুশ্রূষাকারী নার্সদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হলে তাঁদেরও আইসোলেশনে পাঠানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভাইরাসের নতুন ধরন আরও বেশি সংক্রামক। এই আশঙ্কার মধ্যে অর্ধশতাধিক দেশ যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।