পেলোসি-ম্যাককনেলের বাড়িতে হানা

123

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেলের বাড়িতে অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। বিবিসির আজ রোববারের খবরে জানা যায়, ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা পেলোসির বাড়ির বাইরে নকল রক্ত ছিটানো হয়। এ ছাড়া এলোমেলো গ্রাফিতি এঁকে নানা দাবি জানানো হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির নেতা ম্যাককনেলের বাড়িতেও প্রায় একই রকম গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।

দ্য হিলের খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সকালে পেলোসির বাড়ির গ্যারাজের দরজায় রং করা স্প্রে দিয়ে লেখা হয়, ‘দুই হাজার ডলার’, ‘বাতিল কর’। সেখানে আরও লেখা ছিল ‘আমরা সব চাই’। বাড়ির আশপাশের গাছে নকল রক্ত ছড়ানো ছিল। গ্রাফিতির নিচেই শূকরের একটি মাথা রাখা ছিল।

বিবিসির খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির নেতা ম্যাককনেলের বাড়িতে ‘আমার অর্থ কোথায়?’—এ রকম লেখাসংবলিত গ্রাফিতি আঁকা হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পরে এ ঘটনা ঘটল। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে প্রণোদনা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ডলার করার ওপর ভোটাভুটি হয়। ৪০ জনেরও বেশি রিপাবলিকানের সমর্থনে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন চেম্বার এই বিল পাস করে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পরও রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেট প্রণোদনা বিল বাড়ানোর অনুমোদন দেয়নি।

রিপাবলিকান সিনেটর ম্যাককনেল স্থানীয় সময় গত বুধবার বলেছেন, যাদের সহায়তার প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য সিনেট আর ঋণ বাড়াতে চায় না।

স্থানীয় সময় শনিবারের ঘটনার পর ম্যাককনেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেন্টাকিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমার সঙ্গে তাঁরা একমত হোন বা না হোন, সবাই প্রশংসার দাবিদার।’ ভাঙচুরের ঘটনার উল্লেখ করে ম্যাককনেল বলেন, ‘এটা আলাদা ঘটনা। আমাদের সমাজে ভাঙচুর—ভয়ের রাজনীতির কোনো জায়গা নেই।’

সান ফ্রান্সিসকোর পুলিশ জানিয়েছে, পেলোসির বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত করছেন। তবে পেলোসি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেস প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটো নাকচ করে দেয়। ন্যাশনাল ডিফেন্স অথোরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) নামের বিলটির ওপর বিতর্কের পর এ নিয়ে সিনেটে ভোটাভুটি হয়। এতে বিলের পক্ষে ভোট দেন ৮১ জন। বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ১৩টি।