ধ্বংসের ক্ষত চিহ্ন মুছে ফেলছে ক্যাপিটল হিল

145

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ক্যাপিটল হিল সন্ত্রাসীদের তান্ডবে ক্ষত-বিক্ষত। যেনো গণতন্ত্রের ললাটে একে দেয়া নিষ্ঠুর কালিমা। যা সহজে মুছে যাবেনা। আধুনিক ইতিহাসে রয়ে যাবে এক কলংকময় অধ্যায় হয়ে। এখন মার্কিন জাতীয় টেলিভিশনের ফুটেজে ধরা পড়ছে অভাবনীয় তান্ডবলীলা। একের পর তছনছ করা আসবাবপত্র। অগণিত ভাঙা দরোজা আর জানালার কাঁচ, কাঠের টুকরোয় ছেয়ে আছে গোটা বিল্ডং। যেনো এক যুদ্ধ ক্ষেত্র।
চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ভবনের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এসব ধ্বংসাবশেষ।যেনো এক প্রচন্ড ঝড় বয়ে গেছে আইনসভা ভবনের উপর দিয়ে। প্রবেশ লবি থেকে শুরু করে বাদ যায়নি কংগ্রেস ও সিনেট ফ্লোর। স্পিকার পেলোসির অফিস। সিনেটরদের ব্যক্তিগত কক্ষও। সন্ত্রাসীদের মধ্যে এক প্রচন্ড আক্রোশ কাজ করেছে তা সহজেই বোঝা যায় প্রচার হওয়া ভিডিওতে। বাঁধ ভাঙা স্রোতের মতো ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়া চরমপন্থী উগ্রবাদীরা তছনছ করে দিয়েছে বিশ্ব গণতন্ত্রের পাদপীঠ।

যত্রতত্র পড়ে আছে আধ পোড়া সিগারেটের টুকরো, ছাই, ভাঙাচুরা পতাকার ষ্ট্যান্ড। দেয়ালে টানানো মূল্যবান ছবি কোন কিছুই বাদ যায়নি লুটতরাজ থেকে। একজনকে স্পিকার পেলোসির পোডিয়াম বয়ে নিতে দেখা যায়। গত দুইদিন ধরে এই ধ্বংসযজ্ঞ সাফ-সুতরোর কাজ করেছন কর্মীরা। বড় বড় পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফেলা হচ্ছে সকল ডিব্রি। সাথে চলছে ধোয়া মোছার কাজ। অনেক আইন প্রণেতা বর্ণনা করছেন অচিন্তনীয় ধ্বংসলীলার, ভীতিকর পরিস্হিতির। প্রায় আড়াই ঘন্টার তান্ডবে লন্ডভন্ড সমস্ত কিছু। বিশ্বের অন্যতম সাজানো গোছানো এই ক্যাপিটল ভবনের ভেতরের চেহারা চেনাই দায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মনুমেন্টাল মাস্টার পিস ক্যাপিটল ভবন বিখ্যাত স্হপতি উলিয়াম থর্নটনের নকশায় গোড়াপত্তন হয় ১৭৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। ১৮০০ সালে কাজ সামাপ্ত হয়। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে ভবন বর্ধিত করনের কাজ করা হয়। ৫ তলা বিশিষ্ট এই ভবনের ফ্লোর এরিয়া ১৬ পয়েন্ট ৫ একর। এটা মার্কিন জাতীয় আইনসভা ভবন। এই ভবনকে বলা হয় ক্যাপিটল হিল। প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেটের সমন্বয় হচ্ছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের আইন প্রণেতারা এখনে অধিবেশনে মিলিত হন। এখনে রয়েছে এসকল অইন প্রণেতাদের অফিস।

২০২১ সালের আগে ক্যাপিটল আরেকবার আক্রান্ত হয়েছিল যুদ্ধ কালীন সময়ে বৃটিশদের দ্বারা। ক্যাপিটল হিল থেকে মাত্র ২ দশমিক ৭ মাইল দুরে বিখ্যাত ওয়াশিংটন মনুমেন্ট এবং হাঁটা দুরত্ব ৩ দশমিক ১ মাইলের ভেতরে লিন্কন মেমোরিয়ালের অবস্থান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারী বাসভবন হোয়াইট হাউস ৩ দশমিক ৬ মাইল দুরে অবস্থিত।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ পর্যটক বছরে এইসব ঐতিহাসিক স্হাপনা পরিদর্শনে আসেন।