জনগণ যেন মনে না করে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: হাইকোর্ট

171

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, পুলিশকে কথায় নয় কাজে পটু হতে হবে। কে কোন মতাদর্শের, কোন দলের সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। সর্বস্তরের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশের কর্মকাণ্ডে জনগণের মধ্যে যেন ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করতে হবে আপনারা জনগণের বন্ধু। পত্র-পত্রিকায় যা দেখলাম, তা যদি কুষ্টিয়ার বাস্তব অবস্থা হয়, তা হবে জাতির জন্য ভয়ংকর। জনগণ যেন মনে না করে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। জাতি উৎকণ্ঠিত, এটা নিরসন করার দায়িত্ব পুলিশের।

সোমবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। এ সময় এসপি বার বার আদালতের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মাই লর্ড, মাই লর্ড বলতে থাকেন।

এর আগে হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এসপি তানভীর। এরপর তা আদালতে উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আহমেদ ইশতিয়াক। এসপির পক্ষে শুনানি করেন মনসুরুল হক চৌধুরী।

আদালত ক্ষমার আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। একইসঙ্গে আদালত এসপিকে বলেছেন, আমাদের এই মনোভাব আগামী দিনের আপনার কর্মকাণ্ডে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, সেটা দেখতে চাই। একইসঙ্গে তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে সাময়িক সময়ের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আদালত অবমাননার মামলায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনে এসপি বলেছেন, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে চিনতে পারেননি। তাই এমন অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক হবেন। এ ধরনের ভুল আর কখনও হবে না বলেও আবেদনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

আবেদনে তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের জন্য আমার মনে সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র অসম্মান দেখানোর কথা দূরে থাক, বরং বিচার বিভাগের দেওয়া কাজে নিয়োজিত হতে পারলে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি। এ ঘটনায় আমি মনের গভীর থেকে অনুতপ্ত। এজন্য আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌর নির্বাচনে দায়িত্বরত এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অশোভন আচরণের দায়ে এসপি তানভীরকে তলব করে হাইকোর্ট। এছাড়া আদালত অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার তলবের আদেশ দেন।

হাইকোর্ট বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও আইনানুযায়ী ভোটকেন্দ্রে বিচারিক দায়িত্ব পালন করছিলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান। কিন্তু দায়িত্বরত একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পুলিশ সুপার যে আচরণ করেছেন তা আদালত অবমাননার শামিল। উনার (এসপি) এই কর্মকাণ্ড শুধু বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপই নয় বরং পুরো বিচার বিভাগের প্রতি প্রচণ্ড আঘাতের সামিল। তার এই কর্মকাণ্ডকে আমরা (আদালত) এড়িয়ে যেতে পারি না। এছাড়া এটাকে হালকাভাবে নেওয়ারও সুযোগ নাই। তিনি শুধু গুরুতর আদালত অবমাননাই করেননি, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করেছেন।

আজ সোমবার হাইকোর্টে হাজির হন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত।