এখনই টিকা নিতে আগ্রহী ৩২% মানুষ

237

দেশের বেশির ভাগ মানুষ করোনাভাইরাসের টিকা নিতে আগ্রহী। তবে বড় অংশ এখনই নয়, কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস অপেক্ষার পর টিকা নিতে চায়।

করোনার টিকা নিয়ে মানুষের এই মনোভাব উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে। এতে বলা হয়, ৮৪ শতাংশ মানুষ টিকা নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এখনই পেলে টিকা নেবেন ৩২ শতাংশ। অপেক্ষার পর নিতে চান ৫২ শতাংশ। আর কখনোই টিকা নেবেন না ১৬ শতাংশ মানুষ।

জরিপের এই ফলাফল মঙ্গলবার এক ওয়েবিনারে প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, ‘কোভিড-১৯ টিকার প্রতি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক জরিপটি দেশের আট বিভাগের আট জেলার ১৬ উপজেলা ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৩ হাজার ৫৬০ জন মানুষের ওপর করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে ৫০০ জন করে এবং উপজেলাগুলো থেকে ১৬০ জন করে মানুষকে নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়।

তথ্য সংগ্রহ করা হয় ১০ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। জরিপকারীরা জনসমাগম বেশি হয়, এমন স্থানে গিয়ে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে নমুনা ঠিক করে তথ্য সংগ্রহ করেন।

ওয়েবিনারে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ গবেষণাটি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, যাঁরা একটু অপেক্ষার পর টিকা নিতে চান, তাঁদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের এই মুহূর্তে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ আছে। ৩৪ শতাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কিত।

জরিপে উঠে আসে যে নারীদের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহ বেশি। জরিপে তথ্য সংগ্রহের আওতায় আসা ৮৭ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাঁরা টিকা নেবেন। অন্যদিকে ৮২ শতাংশ পুরুষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বিভাগওয়ারি হিসাবে টিকা নেওয়ার আগ্রহের হার সবচেয়ে কম ঢাকায়। ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) টিকা নিতে আগ্রহী ৬৩ শতাংশ। ঢাকা শহরে হারটি ৭৩ শতাংশ। এ ছাড়া জরিপে আসা সিলেটের ৭৮, চট্টগ্রামের ৮৩, খুলনার ৯০, রাজশাহীর ৯১, বরিশালের ৯২, ময়মনসিংহের ৯৫ ও রংপুরের ১০০ শতাংশ মানুষ টিকা নিতে আগ্রহী।

জরিপে আরও উঠে আসে, প্রশ্নের জবাবে বড় অংশের মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা টাকা খরচ করে হলেও টিকা নিতে আগ্রহী। যাঁদের মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি, তাঁদের প্রায় ৯২ শতাংশ এ ক্ষেত্রে টাকা খরচ করতে চান। ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয়ের ক্ষেত্রে হারটি প্রায় ৮১ শতাংশ। ২০ হাজার টাকার কম আয়ের মানুষদের ৫২ শতাংশ প্রয়োজনে টাকা খরচ করে টিকা দিতে চান।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেছেন, এখানে আস্থার বিষয়টি কাজ করতে পারে। এ ছাড়া মানুষ টাকা দিয়ে ভালো সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা করে।

কোন পেশার মানুষ টিকা নিতে বেশি আগ্রহী, তা–ও জরিপে উঠে আসে। নমুনায় আসা জনপ্রতিনিধিদের শতভাগ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায় ৯২ শতাংশ, সরকারি চাকরিজীবীদের ৯০ শতাংশ, বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৮৮ শতাংশ এবং শিক্ষকদের ৮৫ শতাংশ টিকা নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। সবচেয়ে কম আগ্রহ ধর্মীয় প্রতিনিধিদের, তাঁদের ক্ষেত্রে হার ৬১ শতাংশ।

যাঁরা একদমই টিকা নিতে ইচ্ছুক নন, তাঁদের বিষয়ে জরিপে বলা হয়েছে, তাঁরা টিকার মান, কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে মূল কারণ হিসেবে জানিয়েছেন। এ ছাড়া অনেকে টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই বোধ করেন না।

গবেষণায় সরকারের উদ্দেশে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো মানুষের মধ্যে টিকার কার্যকারিতা, মান ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রচারণা চালানো এবং টিকা কতটা নিরাপদ, তা বোঝাতে দেশের উচ্চপদস্থ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিদের টিকা নেওয়া। টিকার স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে মানুষকে জানানো ও প্রয়োজনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গুজব রটার আশঙ্কা প্রকাশ করে গবেষণায় এ বিষয়ে সরকারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ওয়েবিনারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, টিকা নিবন্ধনের জন্য তৈরি অ্যাপ সুরক্ষা অপ্রয়োজনীয়। জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েই টিকা দেওয়ার কাজ করা যেত। অ্যাপ সবার জন্য সহজ হবে না। টিকা দেওয়ার কাজটি সরকারের হাতে রাখাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এখনই তা বেসরকারীকরণ করা ঠিক হবে না।