ব্রাজিলে পাওয়া নতুন স্ট্রেইনের দেখা মিলল যুক্তরাষ্ট্রে

127

ব্রাজিলে পাওয়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রেও শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো নতুন এই স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে বলে গতকাল সোমবার জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলে পাওয়া করোনার নতুন স্ট্রেইনের নাম দেওয়া হয়েছে কোভিড-১৯ ব্রাজিল পি.১। সোমবার এই নতুন স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তি মিনেসোটায় শনাক্ত হয়েছে। এটিই নতুন এই স্ট্রেইনে যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হওয়া প্রথম সংক্রমণ। শনাক্ত হওয়া ওই ব্যক্তি টুইন সিটির বাসিন্দা, যিনি কিছুদিন আগে ব্রাজিল ভ্রমণ করেছিলেন।

মিনেসোটা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে ৯ জানুয়ারি তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তিনি করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়। মিনেসোটার স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতি সপ্তাহে দৈবচয়নের ভিত্তিতে করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের ৫০টি করে নমুনা পরীক্ষা করে। এরই অংশ হিসেবে সংগৃহীত নমুনা মিনেসোটা ইউনিভার্সিটি ও ওকডেলের ইনফিনিটি বায়োলজিক্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি।

এ সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে মিনেসোটা স্বাস্থ্য কমিশনার জ্যান ম্যালকম বলেন, কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে এই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যত কম লোক নতুন স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত হবে, সংকট তত কম হবে। এ ক্ষেত্রে আরেকটি সুখবর হচ্ছে করোনার যেকোনো স্ট্রেইনের বিস্তার আমরা মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব মানা ও পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো মেনে চলার মাধ্যমে ঠেকাতে পারি। এটা পরীক্ষিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানাচ্ছে, ব্রাজিলে পাওয়া করোনার নতুন স্ট্রেইনটি প্রথম শনাক্ত হয় জাপানের টোকিওতে। সেখানে ব্রাজিল ফেরত চারজনের শরীরে প্রথম এই স্ট্রেইন শনাক্ত হয়। এখন পর্যন্ত করোনার অন্য যে ধরনগুলো স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের শঙ্কায় ফেলেছে, তা হলো প্রথম যুক্তরাজ্যে পাওয়া বি১.১.১৭ ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া ১.৩৫১। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন স্ট্রেইনটি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ অনেকগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকারটিও বেশ কয়েকটি দেশে ছড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো তা শনাক্ত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন বাজে দিকে যাচ্ছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত আড়াই কোটির বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৪ লাখ ২১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।