রাজাধানীতে সেনাপ্রধানের ছবি নিয়ে উল্লাস সু চি বিরোধীদের

153

অভ্যুত্থানবিরোধী ও গণতন্ত্রপন্থিরা ভয়ে ভয়ে থাকলেও অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজধানীতে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে মিয়ানমারের সেনা সমর্থকরা। সোমবার সকাল থেকেই তাদের আনাগোনা বাড়ছিল। আনন্দের আতিশয্যে বিজয় মিছিলও বের করে বিক্ষিপ্তভাবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময় বুধবার) পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় দেশটির জান্তা সমর্থকরা। রাজধানী নেপিদোর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বিরাট বিজয় মিছিলের আয়োজন করে সেনামদদপুষ্ট সমর্থকরা। এতদিন যে সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল সেনারা, এদিন সেই ব্যারিকেডগুলোও চোখে পড়েনি। এএফপি, দ্য হিন্দু, ইরাবতি।

নিজেদের সমর্থন দেখানোর জন্য সেনারা পেছন থেকে এসব জয় মিছিলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। একেবারে হাতগুটিয়ে বসে নেই দেশটির গণতন্ত্রকামী সু চি সমর্থকরাও।

গ্রেফতার-গুম আতঙ্কের মধ্যেই বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির আনাচে কানাচে। ইয়াঙ্গুনে তো চলছেই, বৃহস্পতিবার মান্দালয়েও নতুন করে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের আয়োজন করে একদল সাহসী সু চিভক্ত। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে দেশটির যুব সমাজ। আটক আতঙ্কে ঘরের বাইরে বের হতেই সাহস পাচ্ছে না কেউ। ভয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে তরুণরাও।

বৃহস্পতিবার সেনা সমর্থকরা সামরিক বাহিনীর পতাকা ও জাতীয় পতাকা নিয়ে বড় ধরনের জয়োল্লাস করেছে নেপিদোতে। এতে সামরিক বাহিনীপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ছবি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত হন অনেক অংশগ্রহণকারী।

আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের গায়ে ছিল সামরিক বাহিনীর পোশাক। তারা সেনাসদস্য নাকি তাদের পক্ষের মিলিশিয়া, তা স্পষ্ট নয়। আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ থেকে সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থন করে বক্তব্য দেওয়া হয়।

সোমবার সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা দেশটির নেত্রেী ও কাউন্সিলর অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তসহ জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতাকে আটক করে। বুধবার তাদের মধ্যে সু চি ও প্রেসিডেন্ট মিন্তকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।