আমিরাতের মঙ্গল অভিযানের উদ্দেশ্য কী?

131

আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গল অভিযানে নাম লেখাল সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিবিসি জানিয়েছে, হোপ নামের এই যানটি মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশের পর দেশটি এখন সাফল্য উদযাপন করছে। খবরে বলা হয়, সাত মাস আগে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে এই যানটি পৃথিবী ছেড়ে গেলেও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ভেতরে ঢুকে পড়তে এটিকে কিছুটা সময় ক্ষেপণ করতে হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিজ্ঞানীরা এখন হোপের মাধ্যমে ওই গ্রহটির পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার পর তা নিয়ে গবেষণা করবেন। তাদের এই স্যাটেলাইটে তিনটি যন্ত্র আছে- যা দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে এক সময়ে মঙ্গলে যে প্রচুর পানি ছিল তা কোথায় হারিয়ে গেল।

সেখান থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ক্ষুদ্রতম একক বা নিউট্রাল অ্যাটম সংগ্রহ করে এই পরীক্ষা চালানো হবে।

এছাড়া ওই গ্রহটি থেকে হাই রেজুলেশনের অত্যন্ত উচ্চ মানের ছবিও পৃথিবীতে পাঠাবে হোপ।

এই মিশনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরব আমিরাতে বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান সারাহ আল আমিরি, যিনি দেশটির অ্যাডভান্সড সায়েন্সবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা মঙ্গলে পৌঁছাতে চেয়েছি, আমি আসলেই কৃতজ্ঞ, মনে হচ্ছে কাঁধের ওপর থেকে সাত বছরের একটা ভার নেমে গেছে।

হোপ এখন মঙ্গলের চারদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরছে। আগামী কয়েকদিনে মধ্যে এটি তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই হোপ মিশনের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। সরকারি সব স্তম্ভ, ভবন এবং ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলোতে লাল আলো জ্বালানো হয়।

সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুরুজ আল খলিফাতে আলো জ্বালিয়ে মঙ্গলবারের ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষণ-গণনা দেখানো হচ্ছিল।

হোপ মিশনটিকে পারস্য উপসাগরীয় এই ছোট দেশটির জন্য বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিশনটির মাধ্যমে আমিরাত বিশ্বের পঞ্চম শক্তিতে পরিণত হলো যারা মহাকাশে গবেষণার জন্য মঙ্গলে যান পাঠালো।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউরোপ এবং চীন মহাবিশ্বের ‘লাল গ্রহ’ নামে পরিচিত এই গ্রহটিতে এধরনের অনুসন্ধান চালিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা