রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিতে প্রভাব পড়বে না

459

জাতির উদ্দেশে ভাষণে মিয়ানমারের সামরিক শাসক

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কার মধ্যেই দেশটির সেনা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইং জানিয়েছেন, তার সরকার মিয়ানমারের চলমান পররাষ্ট্র নীতিতে কোন পরিবর্তন আনবে না। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে যে চুক্তি আছে তাতেও কোনো প্রভাব পড়বে না। যদিও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উল্লেখ করেননি এই সামরিক শাসক। খবর:বিবিসির।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী যেভাবে গৃহহীন লোকজনকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেবার কথা ছিল সেটা চলতে থাকবে। তার ভাষণের পুরোটাই ছাপা হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে। ভাষণের বেশিরভাগ অংশেই নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন জেনারেল লাইং।

রোহিঙ্গা পুনর্বাসন ইস্যুতে তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অস্থায়ী শিবিরে যেসব বাস্তুচ্যুত লোকজন রয়েছে তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের সাথে চুক্তি আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি বলেছেন, যদি তা দেশের স্বার্থের জন্য কোনো ক্ষতি না করে। বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গ্রহণযোগ্য, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব অনুযায়ী তাদের ফেরার অনুমোদন দেওয়া হবে।

ভাষণে জেনারেল লাইং বলেন, আটক নেতা অং সান সু চি নভেম্বর মাসে যে নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হয়েছে বলা হচ্ছে- তা নিরপেক্ষ ছিল না। নির্বাচনে অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেনারেল লাইং খুব দ্রুতই নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এজন্য নতুন একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলেছেন। তিনি তার ভাষণে সরাসরি বিক্ষোভরত মানুষদের কোন হুমকি দেননি তবে বলেছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।