চীনা প্রেসিডেন্টকে বাইডেনের ফোন, কী কথা হলো?

137

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে প্রথম ফোনালাপ হয়েছে।হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, বুধবার বিকালে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে। বাণিজ্য, গুপ্তচরবৃত্তি, করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়লেও বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ চলমান থাকে। এই চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চীনা প্রেসিডেন্টকে ফোন করলেন বাইডেন।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এ ফোনালাপ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বেইজিং। এছাড়াও, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বাইডেনের নতুন প্রশাসনের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে চীন। চীনের চন্দ্র নববর্ষের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একই আহ্বান জানাল চীন। চীনের এই আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শি জিন পিং ও জো বাইডেনের মধ্যে ফোনালাপে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার ব্যাপারে উভয় পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের শিনজিয়াং এ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গটি শি জিন পিংয়ের কাছে উত্থাপন করেছেন বাইডেন। বাণিজ্য ইস্যু, হংকংয়ে চলমান দমন, পীড়ন, তাইওয়ানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রসঙ্গেও তাদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন।পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও মারণাস্ত্র বিস্তার রোধেও আলোচনা হয়।

শি জিন পিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপের পর বাইডেন এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি তাকে (শি জিন পিং) বলেছেন, যখন আমেরিকার জনগণের সুবিধার বিষয়টি আসবে, তখন চীনের সঙ্গে কাজ করব।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি বলেছে, দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংঘাত হলে, তা উভয় দেশের জন্য একটা বিপর্যয় হবে বলে বাইডেনকে সতর্ক করেছেন শি জিন পিং। দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।