যুক্তরাষ্ট্রে হিমবাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯

140

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র হিমবাহ ও শৈত্যপ্রবাহে মধ্য এবং দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে হিমবাহের কারণে মৃতদের রাখতে রেফ্রিজারেটর ট্রাকের জন্য জরুরি সাহায্য চাওয়া হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে টেক্সাসের ৫০ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ-সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, টেক্সাসের গ্যালভেস্টন কাউন্টিতে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এক সঙ্গে এত মরদেহ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আরও কয়েক ডজন মৃত্যুর খবর তাদের কাছে আছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে রেফ্রিজারেটর ট্রাক পাঠানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যালভেস্টন কাউন্টি জাজ মার্ক হেনরি জানিয়েছেন, তাঁরা কাউন্টির প্রত্যন্ত অঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও কয়েক ডজন মৃতদেহ উদ্ধারের আশঙ্কার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

কানাডা ও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ডসহ দক্ষিণে ব্যাপক তুষারঝড় ও হিমবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। এসব অঞ্চলের লাখো বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

সান অ্যান্টানিও, ডালাস ও অস্টিন এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা অনেকটা নিরাপদে আছেন। যতটা সম্ভব একজন আরেকজনের খোঁজ নিচ্ছেন। বিদ্যুৎহীন এলাকা থেকে অনেক বাংলাদেশি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।

ডালাস থেকে প্রবাসী রাকীব মজুমদার বলেন, তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকায় এখনো টেলিফোনে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন। প্রায় তিন দশক থেকে ডালাসে থাকলেও এমন হিম প্রবাহে কখনো পড়তে হয়নি বলে তিনি জানান।

ডালাস থেকে মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ থাকায় ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। দক্ষিণের এসব রাজ্যে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। এ কারণে মানুষের তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি কম।

এই পরিস্থিতিতে টিকাদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে পড়েছে তীব্র হিমবাহের কারণে। এই আবহাওয়ায় টিকার সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিবহন কোম্পানিগুলো তীব্র হিম প্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত এলাকায় টিকা পৌঁছাতে পারছে না
নগর কর্তৃপক্ষ আশ্রয়কেন্দ্র খুলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ সংযোগ আরও দুই একদিন বিচ্ছিন্ন থাকলে শীতে মানুষের মৃত্যু বাড়বে বলে আশঙ্কার কথা জানালেন প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেন।

এই পরিস্থিতিতে অ্যালাবামাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মিনেসোটায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রি নিচে অবস্থান করছে। শিকাগো নগরীতে দেড় ফুটের বেশি বরফের স্তূপ পড়েছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলা করার জন্য টিকাদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে পড়েছে তীব্র হিমবাহের কারণে। এই আবহাওয়ায় টিকার সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিবহন কোম্পানিগুলো তীব্র হিম প্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত এলাকায় টিকা পৌঁছাতে পারছে না।

এদিকে টেক্সাসের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ওই আশ্রয়কেন্দ্র বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত জেনারেটর পাঠানোর জন্য জরুরি আবেদন জানানো হয়েছে।

টেক্সাসের আরেকটি এলাকায় বিদ্যুৎহীন ঘরে কাঠ জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখার চেষ্টা করার সময় একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেল। একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

টেক্সাসের পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য পৌঁছে দিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। যে সময় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, তখন টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকার তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের ২ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

তীব্র হিমবাহের রাজ্যগুলোতে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রায় তিন হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে দক্ষিণের রাজ্যগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।