সু চির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের

111

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার তার আইনজীবী জানিয়েছেন। এদিকে, দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার দখল নেয়া সামরিক বাহিনী বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করেছে। রাজধানী নাইপিদোর এক আদালতে বিচারকের সাথে বৈঠক শেষে আইনজীবী খিন মাউং জাও সাংবাদিকদের বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার হওয়া সু চির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অবৈধভাবে ওয়াকি-টকি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। নতুন করে আনা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এমন এক আইন ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে যা করোনাভাইরাস বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারীদের বিচারের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এ আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার বিধান আছে। সু চি’র আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সু চির সাথে দেখা হয়নি এবং আটক থাকার পর তার সাথে শুধু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি বিচারের জন্য আদালত গ্রহণ করেছে কিনা তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে, গত সপ্তাহে সামরিক জান্তার দায়ের করা মামলায় এমনকি আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হলেও সু চিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি থাকতে হতে পারে।

মিয়ানমারের গণতন্ত্রের পথের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তা সরকার বিক্ষোভ দমনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়েছে এবং দেশটির ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের এক মুখপাত্র বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনীর জোর করে ‘জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছা’ পাল্টে দেয়া এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতারের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘ ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ‘আমরা সু চির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এদিকে, বুধবার সারা দেশে আরো বিক্ষোভ হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে ধারণা করা হয়েছিল যে দেশটির সামরিক জান্তারা ব্যাংকটি থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, দেশটিতে থাকা জাতিসঙ্ঘ কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।

এ দিন প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারী বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আরেক বড় শহর মান্দালয়ের রাস্তায় সু চির পোস্টার নিয়ে গণতন্ত্র ফিরে দেয়ার জন্য স্লেগান দিয়ে মিছিল করেন।