যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রণোদনা প্রস্তাব পাস

120

ক্ষমতায় আসার পর ‘আমেরিকা উদ্ধার পরিকল্পনা’ নামের নাগরিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নানা অনিশ্চয়তার পর সেই প্রণোদনার অর্থ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। আজ শনিবার সকালে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৯-২১২ ভোটে ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের এই প্রণোদনা পাস হয়।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিগগিরই ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের ‘আমেরিকা উদ্ধার পরিকল্পনা’ আইন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে। ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের পাস কাটিয়েই বিলটি পাস করা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর আগামী মাসের মধ্যেই হয়তো এই সহযোগিতার অর্থ নাগরিকেরা পেতে পারেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতিমধ্যে বলেছেন, ইতিহাসের নজিরবিহীন বিপর্যয়ের সময় সরকার সর্বশক্তি নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াবে। জনগণের কাছে অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে দ্রুত চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনাই বাইডেন প্রশাসনের এখন অগ্রাধিকার।

কোভিড-১৯ সংক্রমণে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিপর্যয়কর সময়ে দাঁড়িয়ে মার্কিন সরকার সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়াতে চায়। রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন করে বড় ধরনের নাগরিক সহযোগিতা এখন অপ্রয়োজনীয়। তাদের মতে, এমন উদার নাগরিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্রেটিক দলের দুজন প্রতিনিধি এই বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা হলেন—ওরেগন অঙ্গরাজ্যের কুর্ট শ্রাদার ও মেইনের জ্যারেড গোল্ডেন। তারপরও প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাস হয়েছে। এখন তা অনুমোদনের জন্য সিনেটে যাবে। এরপর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাতে সই করলেই যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ নতুন নাগরিক সহযোগিতার নগদ অর্থ পেতে শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন নাগরিক সহযোগিতায় যাদের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলারের কম তাঁরা জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ ডলার করে পাবেন। নতুন নাগরিক প্রণোদনায় ক্ষুদ্র ব্যবসা বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইনসের মতো কোভিড-১৯-এ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত, সে সব ব্যবসার জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় হাসপাতাল, টিকাদান কেন্দ্রসহ স্বাস্থ্য খাতে ফেডারেল প্রণোদনা দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রণোদনার অর্থ বরাদ্দ রয়েছে।

এর আগে নাগরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রথম দফায় মানুষ ১ হাজার ২০০ ডলার করে এবং দ্বিতীয় দফায় জনপ্রতি ৬০০ ডলার করে পেয়েছেন। এবার জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ ডলার পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক সমস্যায় হাবুডুবু খাওয়া মানুষের মধ্যে স্বস্তি আসবে বলে বাইডেন প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে।