স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র

128

করোনায় সংক্রমিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গত এক বছরে ৫ লাখ ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশে স্কুলসহ নানা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হচ্ছে। ১ মার্চ সকালে বছরখানেক পর যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো নগরীর পাবলিক স্কুলগুলো কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর কলরবে মুখরিত হয়েছে।

এদিকে ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের রেস্তোরাঁগুলো গ্রাহকদের জন্য ধারণ ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা অবারিত করে খুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অধিকাংশ সিনেমা হল, রোলার স্কেটিং রিং ইত্যাদি সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়েছে।

সাউথ ক্যারোলাইনায় বৃহৎ সমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। টেক্সাস ও মিসিসিপি রাজ্যে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।

১ মার্চ সারা দেশে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা থেকে মহামারির কারণে জারি করা নিষেধাজ্ঞা। তবে এখনই সবকিছু খুলে দেওয়ার উপযুক্ত সময় আসেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

দেশজুড়ে করোনার টিকাদান কর্মসূচি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে টিকার সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পর, ভাইরাস সংক্রমণের গতিও এখন অনেকটাই মন্থর হয়েছে।

এ কারণে কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতি শুরু হয়েছে। রাজ্যের স্কুলশিক্ষকদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছেন, এই রাজ্যের কোভিড সংক্রমণের নিম্নমুখী পরিসংখ্যান দেখে বলা যায়, আমাদের টিকাদান কর্মসূচি প্রভাব ফেলতে শুরু করছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক দিক।
১ মার্চ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, টিকা নেওয়া পুরোপুরি সম্পন্ন করেছেন এমন লোকদের ঘরের ভেতরে সমবেত হয়ে আড্ডা দেওয়ায় আর তেমন ঝুঁকি নেই।

জানুয়ারির পর থেকে করোনা মহামারি বিষয়ে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো গড়ে ৬৫ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে নতুনভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন। দেশটিতে এখনো প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নানা স্থানে দ্রুত সংক্রমণ হয় এমন করোনার নতুন ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। করোনা পরীক্ষাও আগের চেয়ে কমেছে। বিপুলসংখ্যক আমেরিকান টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। এসব বিবেচনায় এখনই সব চালু করার বিষয়কে অনেকে তাড়াহুড়া হচ্ছে বলে মনে করছেন।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের মহামারি বিশেষজ্ঞ রবার্ট হরসবার্গ বলেছেন, ‘আমরা এখন মহামারির সর্বশেষ ঢেউয়ের ভেতরে আছি। এখন এমন এক পরিস্থিতির শুরু আমরা দেখছি, যার পর কোভিড একটি বিরল ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। তবে এই মুহূর্তে শতভাগ নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। একটু ধৈর্য এবং আশা নিয়ে চার থেকে ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।’